দীর্ঘ কয়েক বছরের টানাপোড়েন ও দরকষাকষি শেষে সোমবার অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত এক ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই চুক্তির ফলে কেবল বাণিজ্যই নয়, বরং নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং অতি-প্রয়োজনীয় খনিজ সম্পদ সরবরাহের ক্ষেত্রেও দুই পক্ষের মধ্যে এক নতুন শক্তিশালী অংশীদারিত্বের সূচনা হলো।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য এই চুক্তিটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে বাড়তে থাকা বাণিজ্যিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইইউ তাদের বাজার বহুমুখীকরণের চেষ্টা করছে। এ বছর মারকোসুর ও ভারতের পর অস্ট্রেলিয়ার সাথে এই তৃতীয় বড় চুক্তিটি সম্পন্ন করল ব্রাসেলস। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ আরও সুসংহত করার বার্তা দিল। বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি দুই নেতা সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং বিদেশি তথ্যের হস্তক্ষেপ বা প্রোপাগান্ডা রোধে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
প্রতিরক্ষা ও উচ্চপ্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রেও এই চুক্তি বড় পরিবর্তন আনবে। বর্তমানে বৈশ্বিক খনিজ সম্পদের বাজারে চীনের একাধিপত্য কমাতে অস্ট্রেলিয়ার বিশাল খনিজ ভাণ্ডারের ওপর নজর দিয়েছে ইউরোপ। ফন ডার লেয়েন বুধবার অস্ট্রেলিয়ার ‘গার্ডেন আইল্যান্ড নেভাল প্রিসিন্ট’ সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করবেন, যা প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণায় দুই পক্ষের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার প্রতিফলন। বর্তমানে যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং জাপানের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াও এখন ইইউ-র প্রধান ১০টি নিরাপত্তা অংশীদার দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে একদিকে যেমন অস্ট্রেলীয় কৃষিপণ্য ইউরোপের বাজারে সহজ প্রবেশাধিকার পাবে, অন্যদিকে ইউরোপীয় প্রযুক্তি ও শিল্পখাত অস্ট্রেলিয়ার খনিজ সম্পদের ওপর নির্ভর করে তাদের সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিস্থাপক করতে পারবে। ক্যানবেরায় পার্লামেন্ট অধিবেশনে ভাষণের মাধ্যমে ফন ডার লেয়েন এবং অ্যালবানিজ এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
