নরওয়েজীয় মানবাধিকার কর্মী এবং ‘এজিয়ান বোট রিপোর্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা টমি ওলসেনকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘আইনি অপব্যবহার’ বলে অভিহিত করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সোমবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, গ্রিসের দেওয়া একটি ইউরোপীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ওলসেনকে তার নিজ বাড়ি ট্রোমসো থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার পেছনে কোনো যৌক্তিক প্রমাণ নেই। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর মতে, অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা কর্মীদের দমনে গ্রিক কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই আইনি ফাঁদ ব্যবহার করছে।
ওলসেনের বিরুদ্ধে ‘অপরাধী চক্র গঠন’ এবং ‘অবৈধ প্রবেশে সহায়তার’ মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছে গ্রিস। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর সিনিয়র গবেষক ইভা কোসে দাবি করেছেন, ওলসেনের মূল কাজ ছিল এজিয়ান সাগরে অভিবাসীদের ওপর হওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো নথিবদ্ধ করা। তিনি নরওয়েজীয় সরকারকে এই ‘অন্যায়ের’ অংশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ওলসেনকে গ্রিসে প্রত্যর্পণের আবেদন অবিলম্বে নাকচ করা উচিত।
উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে লেসবোসের একটি আদালত একই ধরণের অভিযোগে অভিযুক্ত ২৪ জন মানবিক কর্মীকে দীর্ঘ সাত বছর পর খালাস দিয়েছিল, যাকে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ‘মানবিকতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার’ বড় উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আসামি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সাধারণত স্বয়ংক্রিয় হলেও, ইইউ আদালত স্পষ্ট করেছে যে ‘সুষ্ঠু বিচার’ (Fair Trial) নিয়ে সংশয় থাকলে মানবাধিকারের ভিত্তিতে এই প্রক্রিয়া স্থগিত করা সম্ভব। ৪ মার্চের একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রিসের কারাগারগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নিম্নমানের এবং সেখানে বন্দীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণের ঝুঁকি রয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত মেরি ললর ওলসেনের গ্রেপ্তারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এই অভিযোগগুলো সরাসরি প্রতিহিংসামূলক এবং অধিকার কর্মীদের দমনের একটি সুপরিকল্পিত অংশ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টমি ওলসেনের এই মামলাটি ইউরোপে মানবিক কর্মকাণ্ড ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার মধ্যকার সংঘাতকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। নরওয়েজীয় আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে ইউরোপে সংহতি বা মানবিকতার ভবিষ্যৎ কী হবে। ইভা কোসে পরিশেষে যোগ করেন, “টমি ওলসেনের মতো যারা জীবন বাঁচানোর কাজ করছেন, গ্রিসের উচিত ছিল তাদের সম্মান জানানো, জেলে পুরে দেওয়ার চেষ্টা করা নয়।”
