শুক্রবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৬   |   ২১শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এভারেস্ট অঞ্চলে বিদেশি পর্যটকদের টার্গেট করে এক ভয়াবহ ও পরিকল্পিত বিমা জালিয়াতির পর্দা উন্মোচন করেছে নেপাল পুলিশ। পর্যটকদের খাবারে বিষাক্ত ও অস্বাস্থ্যকর উপাদান মিশিয়ে অসুস্থ করে জরুরি হেলিকপ্টার উদ্ধারের নামে প্রায় ২ কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। নেপাল পুলিশের সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (CIB) এই চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, শেরপা গাইড, হেলিকপ্টার অপারেটর এবং নির্দিষ্ট কিছু হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরি মিলে এই সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল। গাইডরা কৌশলে পর্যটকদের খাবারে বেকিং সোডা, কাঁচা মুরগির মাংস এমনকি ইঁদুরের বিষ্ঠা মিশিয়ে দিত। এর ফলে পর্যটকদের শরীরে বমি ভাব ও মাথাব্যথা দেখা দিত, যা অনেকটা উচ্চতাজনিত অসুস্থতার মতো। এরপর গাইডরা তাদের ভয় দেখিয়ে দ্রুত হেলিকপ্টারে নিচে নামিয়ে আনত এবং সুস্থ পর্যটকদেরও ‘উদ্ধার’ দেখিয়ে বিমা কোম্পানির কাছে মোটা অংকের ভুয়া বিল পাঠানো হতো।

নেপাল পুলিশের তথ্যমতে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৪ হাজার ৭৮২ জন আরোহী এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং ৩০০টির বেশি ভুয়া উদ্ধার অভিযানের প্রমাণ মিলেছে। এই ঘটনায় ৩৩ জনের একটি তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন। তবে এই কেলেঙ্কারির ফলে নেপালের পর্যটন খাত বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বিমা কোম্পানিগুলো নেপালকে তাদের কাভারেজ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। নেপাল টুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, এখন থেকে প্রতিটি উদ্ধার অভিযান কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং পর্যটকদের গাইড নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version