ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম পশ্চিম ইউরোপের কোনো দেশ সংশ্লিষ্ট জাহাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ফ্রান্সের খ্যাতনামা লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান ‘সিএমএ সিজিএম’ এর মালিকানাধীন একটি কন্টেইনার জাহাজ সফলভাবে এই জলপথ পাড়ি দেয়। বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ার পর এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, মাল্টার পতাকাবাহী ‘সিএমএ সিজিএম ক্রিবি’ নামক জাহাজটি দুবাই উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে কেশম ও লারাক দ্বীপের মধ্যবর্তী করিডোর দিয়ে ইরানের উপকূলরেখা অতিক্রম করে। জানা গেছে, সাদে পরিবারের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি ইরানি সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই ট্রানজিট সম্পন্ন করেছে। এর আগে কেবল চীন-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো এই পথে যাতায়াত করছিল। ফরাসি এই জাহাজের সফল পারাপার অন্যান্য আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলোকেও তাদের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে উৎসাহিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক চলাচল নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে একটি বিশেষ প্রোটোকলের খসড়া তৈরি করছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) প্রতিটি ব্যারেল জ্বালানি থেকে ১ ডলার হারে টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে, যা চীনা ইউয়ান বা স্টেবলকয়েনের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হতে পারে। একই দিনে একটি এলএনজি ট্যাঙ্কারও পরীক্ষামূলকভাবে এই জলপথে প্রবেশ করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানিবাহী জাহাজের এমন চলাচল এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক নৌযানের ক্রমান্বয়িক প্রত্যাবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
