ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ নিয়েছে কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি কানাডাকে ইইউর ‘সহযোগী সদস্য’ (অ্যাসোসিয়েট মেম্বার) করার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে গত রবিবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ইইউর কর্মকর্তা এবং কানাডার অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, অতীতে সদস্যপদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম বজায় রাখলেও ইইউ এবার কানাডার জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি ‘সহযোগী সদস্য’ পদ তৈরি করার ধারণার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে।
ব্রাসেলসে অবস্থিত কানাডিয়ান দূতাবাস এবং ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্ররা এ বিষয়ে পৃথকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেননি। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তীব্র হওয়া বাণিজ্য যুদ্ধ কানাডাকে অন্য বাণিজ্য অংশীদারদের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করেছে।
২০২৫ সালের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কানাডার সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটেছে এবং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এই বাণিজ্য বিরোধের জেরে উভয় দেশের কয়েক হাজার কোটি ডলারের আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, শক্তি বা জ্বালানি, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), প্রতিরক্ষা এবং ক্রিটিক্যাল মিনারেলস বা গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মতো কৌশলগত সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে জড়িত কানাডার পণ্য, সেবা ও শ্রমিকদের অবাধ চলাচলের উপায় নিয়ে আলোচনা করছে কানাডা ও ইইউ। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মূলত ইইউর সীমান্ত পরোক্ষভাবে প্রসারিত হতে পারে। এছাড়া উভয় পক্ষ সাবমেরিন কেবল স্থাপন, যৌথভাবে ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড স্টোরেজ নির্মাণ, নতুন স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক এবং কানাডার শক্তি বা জ্বালানি ইউরোপে পাঠানোর অবকাঠামো তৈরি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত দুই অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তার বরাতে ডব্লিউএসজে জানিয়েছে, কানাডার নাগরিকেরা যাতে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ভিসামুক্তভাবে বসবাস ও কাজ করতে পারেন, সে বিষয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁসহ বেশ কয়েকজন ইইউ নেতার সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী কার্নি। চলতি মাসের শেষের দিকে দুই নেতারই সাক্ষাতের কথা রয়েছে। তবে ম্যাক্রোঁর প্রেস অফিস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
অবশ্য কানাডা ও ইইউর মধ্যে এই ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপন খুব একটা সহজ হবে না, কারণ এর আগে অপেক্ষাকৃত ছোট পরিসরের একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছিল। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার এক দশক এবং অন্তর্বর্তীকালীনভাবে কার্যকর হওয়ার ৯ বছর পরও ইইউর বেশ কয়েকটি দেশ এখনো তা অনুমোদন বা অনুসমর্থন করেনি।
