বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে আজ সোমবার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে দুই পক্ষের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘পার্টনারশিপ অ্যান্ড কোঅপারেশন এগ্রিমেন্ট’ (PCA) বা অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এমন শক্তিশালী একটি কৌশলগত কাঠামো তৈরিতে মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
মূলত ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ঢাকায় প্রাথমিক আলোচনার মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ার সূত্রপাত ঘটে এবং দীর্ঘ পাঁচ দফা বৈঠক ও কারিগরি সভার পর গত জানুয়ারি মাসে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। এই পিসিএ চুক্তিটি আগামী দিনে বাংলাদেশ ও ইইউ-র মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের আইনি ও রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে সুশাসন, মানবাধিকার রক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে দুই পক্ষ নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে। এছাড়া বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সমুদ্র ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতেও কারিগরি ও নীতিগত সহযোগিতার নতুন পথ খুলবে।
এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর রবিবার তুরস্ক থেকে ব্রাসেলসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব ড. মো. নজরুল ইসলামও প্রতিনিধি দলে রয়েছেন। ব্রাসেলসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগামী শুক্রবার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।


