শুক্রবার, ২৭ই মার্চ, ২০২৬   |   ১৪ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশের হার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ায় এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে ব্রিটিশ লেবার সরকার। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ফ্রান্সের সঙ্গে অভিবাসন চুক্তি নবায়নের সময় তারা এবার ‘পয়সার সঠিক মূল্য’ বুঝে নিতে চান। ২০২৩ সালে তৎকালীন রক্ষণশীল সরকার প্যারিসকে তিন বছরের জন্য ৪৭৬ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৫৭০ মিলিয়ন ডলার) দেওয়ার যে চুক্তি করেছিল, তার মেয়াদ আগামী সপ্তাহে শেষ হতে চলেছে। কিন্তু বিপুল অর্থ ঢালার পরও ২০২৫ সালে প্রায় ৪২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী ইংল্যান্ডের উপকূলে পৌঁছেছেন, যা ২০১৮ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এবং প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এখন উভয়সংকটে। একদিকে ডানপন্থী ‘রিফর্ম ইউকে’ পার্টি জনমত জরিপে হু হু করে এগিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে নিজেদের দলের ভেতরেই বামপন্থী এমপিদের তোপের মুখে পড়েছেন তারা। সরকার সম্প্রতি শরণার্থীদের সুরক্ষা কমিয়ে দেওয়ায় এবং সহায়তা প্রত্যাহার করায় নিজ দলের ভেতরেই ক্ষোভ দানা বাঁধছে। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের উপকূলে অতিরিক্ত আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা নিয়োগ এবং নতুন আটককেন্দ্র নির্মাণের জন্য দেওয়া অর্থের প্রকৃত সুফল দেখতে চায় লন্ডন। মুখপাত্র জানান, নতুন চুক্তিতে এমন সব ‘নতুন ভাবনা’ যোগ করা হচ্ছে যা ছোট নৌকায় চ্যানেল পারাপারের ওপর সত্যিকারের প্রভাব ফেলবে।

এদিকে গত বছরের শেষদিকে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে ‘ওয়ান-ইন, ওয়ান-আউট’ নামে একটি পরীক্ষামূলক ফেরত পাঠানোর চুক্তি চালু হয়েছে। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই প্রকল্পের আওতায় ৩০৫ জনকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং ৩৬৭ জন ব্রিটেন এসেছেন। তবে ৪২ হাজারের বিশাল সংখ্যার তুলনায় এই পরিসংখ্যানকে ‘সমুদ্রে এক ফোঁটা জল’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। আগামী সপ্তাহের চুক্তি নবায়ন আলোচনার ওপরই নির্ভর করছে স্টারমার সরকার ব্রিটিশ জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারবে কি না।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version