মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন সরাসরি প্রভাব ফেলছে সাধারণ যাত্রীদের পকেটে। আকাশপথে চরম অস্থিরতা এবং একের পর এক রুট পরিবর্তনের কারণে উড়োজাহাজের টিকিটের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক এয়ারলাইন্স তাদের নিয়মিত ও স্বল্প দূরত্বের রুটগুলো বন্ধ করে দীর্ঘ বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং ট্রানজিট সুবিধা কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপগামী যাত্রীদের গুনতে হতে পারে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া।
বাণিজ্যিক এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ পেদ্রো কাস্ত্রো জানান, রুট পরিবর্তন ও ফ্লাইট সংখ্যা কমে যাওয়ায় সীমিত আসনের বিপরীতে যাত্রীদের প্রতিযোগিতা বেড়েছে। তিনি বলেন, “স্বাভাবিকের চেয়ে চাহিদা এখন অনেক বেশি। যেকোনো পরিস্থিতিতেই এমন অবস্থা টিকিটের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং প্রতিনিয়ত দামের ওঠানামা ঘটায়।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাহিদা ও জোগানের এই চরম সংকটে প্রতিদিন টিকিটের দাম ওঠানামা করছে, যার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটছে সাধারণ মানুষের বর্ধিত ভাড়ার চাপে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক যাত্রী এখন তাদের পূর্বনির্ধারিত ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বর্তমানে ভ্রমণের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও বিমান সংস্থাগুলো ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম শঙ্কিত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এয়ারলাইন্সগুলো যুদ্ধকবলিত এলাকা এড়িয়ে নিরাপদ গন্তব্যগুলোতে ফ্লাইট সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। পেদ্রো কাস্ত্রো সতর্ক করে বলেছেন, “যদিও এখন পর্যন্ত ভ্রমণের চাহিদায় বড় কোনো ধস নামেনি, তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে বিমান খাতে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।”
