মঙ্গলবার, ২৮ই জুলাই, ২০২৬   |   ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আঙুলের ছাপ এবং মুখাবয়ব শনাক্তকরণের (ফেসিয়াল রিকগনিশন) নতুন নিয়মের কারণে সৃষ্ট ভ্রমণ বিপর্যয় এড়াতে সীমান্তে কর্মী বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।
গ্রীষ্মকালীন ছুটির মৌসুম শুরু হওয়ায় আগামী সপ্তাহান্তে চ্যানেল ক্রসিংগুলোতে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ এমপিরা সতর্ক করে বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘এন্ট্রি-এগজিট সিস্টেম’ (ইইএস) সংশোধন করা বা সাময়িকভাবে স্থগিত করা না হলে সীমান্তে ‘ভীষণ বিশৃঙ্খলা এবং মাইলের পর মাইল দীর্ঘ যানজট’ তৈরি হবে।

যদিও ইইউ এই নতুন নিয়ম স্থগিতের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে ফরাসি কর্মকর্তারা যুক্তরাজ্যের পরিবহন সচিব হেইডি আলেকজান্ডারকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ভিড় কমাতে সীমান্তে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হবে।

গত রবিবার পরিবহন সচিব আলেকজান্ডার সীমান্তে বিলম্ব কমাতে যুক্তরাজ্যের সরকারি তহবিল থেকে ২ কোটি পাউন্ড বরাদ্দের ঘোষণা দেন। যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগ (ডিএফটি) জানিয়েছে, এই অর্থ যানবাহন প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতা বাড়াতে, অপেক্ষার সময় কমাতে এবং যানজট নিরসনে ব্যবহার করা হবে।

আলেকজান্ডার জানান, তাঁর ফরাসি সমকক্ষ ফিলিপ তাবারো একমত হয়েছেন যে, গ্রীষ্মকালীন সময়ে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে উচ্চপর্যায়ের জনবল মোতায়েন করা অত্যন্ত জরুরি।

সানডে টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডোভার, ফোকস্টোন এবং লন্ডন সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশন (যেখান থেকে ইউরোস্টার ট্রেন ছাড়ে)—এই স্থানগুলোর পাসপোর্ট বুথগুলোতে পর্যাপ্ত কর্মী নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ ভূখণ্ডে অতিরিক্ত ফরাসি সীমান্ত পুলিশ মোতায়েন করার প্রস্তাব দিয়েছে ফ্রান্স। তবে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে ঠিক কতজন কর্মী নিযুক্ত করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ডিএফটি-এর এক মুখপাত্র বলেন, ‘হেইডি আলেকজান্ডার এবং তার ফরাসি সমকক্ষ একমত হয়েছেন যে, গ্রীষ্মকালে যাত্রীদের যাত্রা সহজ করতে সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে উচ্চপর্যায়ের জনবল থাকা আবশ্যক।’

বৈঠকে আলেকজান্ডার ফরাসি সমকক্ষ তাবারোকে জানান যে, আঙুলের ছাপ ও মুখাবয়ব স্ক্যান করার জন্য ব্যবহৃত বায়োমেট্রিক কিওস্কগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে না।

ডিএফটি উল্লেখ করেছে, ব্রিটিশ ভূখণ্ডে অবস্থানরত ফরাসি সীমান্ত পুলিশ বাস যাত্রী এবং লরির ওপর এই তল্লাশি চালাতে পারে। কিন্তু নতুন কিওস্ক ও ট্যাবলেট প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত ফরাসি কর্তৃপক্ষকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং এর পরিবর্তে তারা গাড়ির যাত্রীদের বায়োমেট্রিক ছাড়াই ম্যানুয়ালি (হাতে কলমে) নিবন্ধন করতে বাধ্য হচ্ছে।

আলেকজান্ডার বলেন, ‘পাসপোর্ট পরীক্ষার বুথ বাড়াতে এবং বিশৃঙ্খলা কমাতে আমরা যে ২ কোটি পাউন্ডের বেশি অর্থ দিয়েছি, তা ছাড়াও আমি পর্যটকদের উদ্বেগের বিষয়টি সরাসরি ইইউ-এর পরিবহন কমিশনারের কাছে তুলে ধরেছি। বছরের এই ব্যস্ততম সময়ে বিলম্ব কমাতে তারা যেন তাদের দায়িত্ব পালন করে, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ভ্রমণকারীদের যাত্রা সহজ করতে আমি আমার সাধ্যমতো সবকিছু করব।’

ডোভার বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মে মাসের ছুটির শুরুতে ইইএস পরীক্ষার কারণে সাড়ে চার ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হয়েছিল। এ বছর গ্রীষ্মে ডোভারে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি যানবাহন যাতায়াত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহান্তে ডোভারে প্রতিদিন প্রায় ১২,০০০ গাড়ি আসতে পারে—যা স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণেরও বেশি।

স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির এমপিদের নিয়ে ডোভার বন্দর পরিদর্শনের পর কমিটির প্রধান ক্যারেন ব্র্যাডলি গত সপ্তাহে বলেছিলেন, ‘আমরা নিজের চোখে দেখেছি যে ফরাসি কর্তৃপক্ষ যদি তাদের তৎপরতা না বাড়ায়, তবে আগামী সপ্তাহে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা হতে যাচ্ছে।’

গত মঙ্গলবার ইইউ জানিয়েছে, নতুন এই নিয়মের কারণে ডোভারসহ প্রায় ২০টি ‘ঝুঁকিপূর্ণ স্থান’ চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে বিমানবন্দর ও বিমানসংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ইইএস স্থগিত করার আবেদন তারা নাকচ করে দিয়েছে।

২০১৫ এবং ২০১৬ সালে ব্রাসেলস ও প্যারিসে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলার পর উন্মোচিত হওয়া সীমান্ত সুরক্ষার দুর্বলতা দূর করতেই এই নতুন ব্যবস্থাটি নকশা করা হয়েছে। বেশ কয়েকবার বিলম্বের পর অবশেষে গত বছরের অক্টোবরে ধাপে ধাপে এটি চালু করা শুরু হয়।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে শেনজেন ভুক্ত দেশগুলোতে প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় যুক্তরাজ্যের যাত্রীদের পাসপোর্ট স্ক্যান করার পাশাপাশি ছবি ও আঙুলের ছাপ দিয়ে সীমান্ত বুথগুলোতে নিবন্ধন করতে হচ্ছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version