নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বিশেষ করে ‘গ্রিন হাইড্রোজেন’ সংক্রান্ত বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রাগুলো জাতীয় আইনে অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় পর্তুগাল, গ্রিস এবং মাল্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ইইউ নির্দেশিকা কার্যকর না করায় দেশগুলোকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিচার আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর ফলে এই তিনটি দেশ বড় ধরনের আর্থিক জরিমানার সম্মুখীন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংশোধিত ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ডিরেক্টিভ’ বা RED III কার্যকর করার শেষ সময়সীমা ছিল ২১ মে, ২০২৫। অভিযোগ রয়েছে যে, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পরেও পর্তুগাল এবং গ্রিস এই সংক্রান্ত কোনো আইনি পদক্ষেপের কথা কমিশনকে জানায়নি। অন্যদিকে, মাল্টা কিছু নথিপত্র জমা দিলেও ইইউ কমিশনের মতে তা আইনগতভাবে অসম্পূর্ণ ছিল। এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট জ্বালানি ব্যবহারের অন্তত ৪২.৫% নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করা। বিশেষ করে শিল্পখাতে ব্যবহৃত হাইড্রোজেনের ৪২% নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এই আইনের অধীনে।
বর্তমানে ইইউ-র অনেক দেশ এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এগিয়ে থাকলেও পর্তুগাল ও গ্রিসের মতো দেশগুলো আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক হাইড্রোজেনের তুলনায় গ্রিন হাইড্রোজেনের উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হওয়ায় অনেক শিল্পোদ্যোক্তা এই আইন গ্রহণে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে ইউরোপীয় কমিশন মনে করছে, এই আইন কার্যকর না করলে হাইড্রোজেন খাতের বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন, যা ইউরোপের সামগ্রিক গ্রিন এনার্জি লক্ষ্যমাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করবে। আদালতের রায় দেশগুলোর বিপক্ষে গেলে বড় অঙ্কের জরিমানার পাশাপাশি তাদের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: এফসিডব্লিউ


