বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশি রাজনৈতিক নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার মাত্রা তীব্রতর হয়েছে। এই সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইউ) ও বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশ উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঢাকা মিশন তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানায়…

ওসমান হাদির অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং তাঁর পরিবার, বন্ধু ও অনুগতদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজনৈতিক সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং বিচার প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে। নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে যে, সমস্ত পক্ষের উচিত শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।

ঢাকাস্থ ইতালিয়ান দূতাবাস, ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে দূতাবাসটি তাঁর পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আন্তরিক সহানুভূতি প্রকাশ করে হাদির ওপর সংঘটিত নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। একই সঙ্গে তারা রাজনৈতিক সহিংসতার সব ধরনের কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মৌলিক মানবাধিকার এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিবৃতিতে বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জোরদারের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়।

নেদারল্যান্ডস রাষ্ট্রদূতাবাসও হাদির মৃত্যুর জন্য শোকজ্ঞাপন করে এবং বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। এছাড়াও অন্যান্য কিছু ইউরোপীয় দেশও ইঙ্গিত করেছে যে, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, মানবাধিকার ও স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, যেমন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, বর্তমানে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং হাদির হত্যার স্বচ্ছ তদন্ত ও অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য জোর দাবী জানায়।

হাদির মৃত্যুতে বাংলাদেশজুড়ে হিংস্র সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে- অগ্নিসংযোগ, রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও গণমাধ্যমের ওপর হামলা সহ নানা ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ইউরোপীয় দেশগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, অস্থিতিশীলতা যদি বৃদ্ধিপায়, তাহলে তা বাংলাদেশে মৌলিক অধিকারের চ্যালেঞ্জে পরিণত হবে এবং জাতীয় নির্বাচনের পিছনের প্রেক্ষাপটকে আরও জটিল করবে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version