বৃহস্পতিবার, ১৯ই মার্চ, ২০২৬   |   ৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে থাকা শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশ কিছু হেডফোনে হরমোন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহতকারী ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। চেক প্রজাতন্ত্রের পরিবেশবাদী সংস্থা ‘আর্নিকা’ এবং ইইউ-অর্থায়িত প্রকল্প ‘টক্সফ্রি লাইফ ফর অল’-এর এক যৌথ গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। স্যামসাং, অ্যাপল, সনি এবং সেনহাইজারসহ ৫০টিরও বেশি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের ৮১টি ভিন্ন মডেলের ওপর এই বিশ্লেষণ চালানো হয়। গবেষণায় প্রতিটি মডেলেই বিসফেনল, থ্যালেটস এবং ফ্লেম রিটার্ড্যান্টের মতো বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি মিলেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষতি, স্থূলতা, হাঁপানি এবং শিশুদের মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, প্রায় ৪৪ শতাংশ হেডফোন মডেলকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘লাল’ তালিকায় রাখা হয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আমাজন ও টেমু-র মতো প্ল্যাটফর্মে বিক্রি হওয়া শিশুদের কিছু হেডফোনে উচ্চমাত্রার রাসায়নিক পাওয়া গেছে। বিশেষ করে টেমু-তে বিক্রি হওয়া শিশুদের একটি হেডফোনে আইনি সীমার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি থ্যালেটস পাওয়া গেছে। এছাড়া বড়দের জন্য তৈরি গেমিং হেডসেটগুলোর ৬০ শতাংশই ‘লাল’ রেটিং পেয়েছে। তবে আশার কথা হলো, অ্যাপলের AirPods Pro 2 এবং জেবিএল-এর JBL Tune 720BT মডেল দুটিকে গবেষণায় সবচাইতে নিরাপদ বা ‘সবুজ’ রেটিং দেওয়া হয়েছে।

এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর নেদারল্যান্ডসের বেশ কিছু বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান যেমন Bol.com, CoolBlue এবং Mediamarkt বিতর্কিত মডেলগুলোর বিক্রি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, হেডফোন ব্যবহারে তাৎক্ষণিক কোনো বড় বিপদ না থাকলেও, দীর্ঘ সময় ধরে এসব রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে প্লাস্টিককে নমনীয় করতে ব্যবহৃত থ্যালেটস এবং ইলেকট্রনিক্সে ব্যবহৃত বিসফেনল সরাসরি হরমোন সিস্টেমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version