ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার অনুপাতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন জমা পড়ার তালিকায় পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে আয়ারল্যান্ড। প্রতি এক হাজার বাসিন্দার বিপরীতে দেশটিতে বর্তমানে ২.৪টি আবেদন জমা পড়েছে। যদিও গত বছরের তুলনায় দেশটিতে সামগ্রিক আবেদনের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে, তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২০২৬ সাল থেকে আরও কঠোর শরণার্থী আইন ও দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চালুর পরিকল্পনা করছে আইরিশ সরকার।
ইউরোপীয় কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আয়ারল্যান্ডে প্রায় ১৩ হাজার আবেদন জমা পড়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ১৮ হাজারের বেশি। বর্তমানে আয়ারল্যান্ডের আগে রয়েছে গ্রিস (৫.৩), সাইপ্রাস ও স্পেন (২.৯) এবং লুক্সেমবার্গ (২.৬)। ইউরোপজুড়ে আশ্রয় আবেদন গড়ে ২৭ শতাংশ কমলেও আয়ারল্যান্ডে আবাসনের তীব্র সংকট এবং নতুন আগতদের গৃহহীন অবস্থা দেশটিকে এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ডাবলিনের রাজপথে আশ্রয়প্রার্থীদের মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
এই সংকট নিরসনে আইরিশ বিচারমন্ত্রী জিম ও’ক্যালাঘান একটি নতুন সংস্কার প্যাকেজ প্রস্তাব করেছেন। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, কর্মরত আশ্রয়প্রার্থীদের তাদের আয়ের ১০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত আবাসন ব্যয়ের জন্য রাষ্ট্রকে দিতে হবে। এছাড়া পারিবারিক পুনর্মিলনের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে; এখন থেকে একজন শরণার্থীকে তার পরিবার আনার জন্য কমপক্ষে তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই বিলকে বিরোধী দলগুলো “নিষ্ঠুর” বলে আখ্যা দিলেও সরকার একে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
