মঙ্গলবার, ৩০ই জুন, ২০২৬   |   ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম কি বড় কোনো অস্তিত্ব সংকটের মুখে? শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার ভয়াবহ অভিযোগে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকা) জরিমানার ঐতিহাসিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের জুরি বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, মুনাফার লোভে মেটা জেনেশুনেই শিশুদের যৌন উত্তেজক কন্টেন্ট এবং অনলাইন অপরাধীদের বা ‘সেক্সুয়াল প্রিডেটরদের’ নাগালের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

সাত সপ্তাহব্যাপী এই রুদ্ধশ্বাস বিচার প্রক্রিয়ায় মেটার অভ্যন্তরীণ অন্ধকার জগত উন্মোচিত হয়েছে। মেটারই সাবেক প্রকৌশলী ও হুইসেলব্লোয়ার আর্তুরো বেজার আদালতে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক সাক্ষ্য দিয়ে জানান, তার নিজের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েও ইনস্টাগ্রামে এক অপরিচিত ব্যক্তির লালসার শিকার হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা মেটার গোপন নথি ফাঁস করে দেখিয়েছেন যে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে অন্তত ১৬ শতাংশ ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী তাদের ফিডে অনাকাঙ্ক্ষিত নগ্নতা বা যৌনতাপূর্ণ কন্টেন্ট দেখার রিপোর্ট করেছিলেন। কিন্তু মেটা কর্তৃপক্ষ তাদের কর্মীদের শত সতর্কতা সত্ত্বেও কেবল ব্যবসায়িক স্বার্থে সাধারণ মানুষের কাছে মিথ্যা বলেছে।

নিউ মেক্সিকোর ‘আনফেয়ার প্র্যাকটিসেস অ্যাক্ট’ বা অনুচিত ব্যবসায়িক নীতি লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিটি অপরাধের জন্য ৫,০০০ ডলার করে এই বিশাল অংকের জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ এই রায়কে এক বিশাল বিজয় হিসেবে দেখছেন। যদিও মার্ক জাকারবার্গের মুখপাত্র জানিয়েছেন তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন, তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এটি কেবল শুরু। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মেটার বিরুদ্ধে একই ধরণের আরও হাজার হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যেখানে শিশুদের ‘আসক্ত’ করার মতো ভয়ানক ডিজাইন ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version