পর্তুগালে জাল নথিপত্র ব্যবহার করে অ্যাঙ্গোলা থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অবৈধভাবে প্রবেশ করানোর একটি চক্র পরিচালনার দায়ে এক নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত ওই নারীকে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বর্তমানে তিনি প্রাক-বিচার আটক অবস্থায় রয়েছেন। পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ অভিবাসনে সহায়তার ১৬টি অপরাধ, নথিপত্র জালিয়াতির ১৩টি অপরাধ এবং অন্যের পরিচয় বা ভ্রমণ নথি ব্যবহারের মাধ্যমে জালিয়াতির ৪টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছে।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে এই পাচারচক্রটি সক্রিয় ছিল। অভিযুক্ত নারী একটি সুসংগঠিত চক্রের অংশ হিসেবে মূলত অ্যাঙ্গোলা থেকে নাগরিকদের পর্তুগালের মাধ্যমে ইউরোপের ‘শেঞ্জেন জোনে’ প্রবেশের নিশ্চয়তা দিতেন। এই জালিয়াতি প্রক্রিয়ায় তারা পর্তুগিজ-অ্যাঙ্গোলান ব্যক্তিদের পরিচয় এবং লুয়ান্ডায় অবস্থিত পর্তুগিজ কনস্যুলার সার্ভিস থেকে ইস্যু করা অন্যদের অস্থায়ী ভ্রমণ নথি ব্যবহার করত। প্রতিটি সফল অনুপ্রবেশের জন্য ওই নারী গ্রাহকদের কাছ থেকে ৬,০০০ থেকে ৮,০০০ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭.৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকা) নিতেন। তবে এই বিশাল অংকের অর্থের মধ্যে বিমান ভাড়ার খরচ অন্তর্ভুক্ত ছিল না, যা গ্রাহকদের নিজেদেরই বহন করতে হতো।
পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস আরও জানিয়েছে যে, অভিযুক্ত নারী প্রতিটি ট্রিপে অ্যাঙ্গোলা থেকে লিসবন পর্যন্ত যাত্রীদের সাথে সশরীরে উপস্থিত থাকতেন এবং পুরো অবৈধ প্রক্রিয়াটি নিজে তদারকি করতেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে এবং পুলিশ এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
