বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ গ্লোরিয়া ফিউনিকুলার লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন, যাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর বিবিসি’র।

জরুরি সেবাদাতারা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে বিদেশিরাও রয়েছেন, তবে তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর কয়েক ঘণ্টা ধরে পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে অভিযান চালান।

লিসবনের মেয়র কার্লোস মোয়েদাস হাসপাতালে গিয়ে ঘটনাটিকে শহরের জন্য ‘একটি করুণ মুহূর্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো দে সুজা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ক্যাবল-চালিত ফিউনিকুলারের ব্রেক হঠাৎ বিকল হয়ে সেটি দ্রুতগতিতে পাহাড়ি রাস্তায় ছুটে গিয়ে একটি ভবনে আঘাত হানে। অনেকে আতঙ্কে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উজ্জ্বল হলুদ রঙের বগিটি উল্টে গিয়ে প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

পরিবহন সংস্থা ক্যারিস জানিয়েছে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণসহ চার বছর অন্তর বড় ধরনের এবং দুই বছর অন্তর মাঝারি পরিসরে পরীক্ষা করা হয় এই ফিউনিকুলারের। এছাড়া দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক তদারকিও করা হয় বলে সংস্থাটির দাবি। তবে স্থানীয় পত্রিকা অবজারভাদর জানিয়েছে, চলার পথে একটি কেবল আলগা হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও শোক প্রকাশ করেছেন।

প্রসঙ্গত ফিউনিকুলার হলো এক ধরনের ‘পাহাড়ি ক্যাবল ট্রাম’। স্থানীয় লোকজন একে প্রায়ই এলভেদর দে গ্লোরিয়া (গ্লোরিয়া লিফট) বলে ডাকেন।

১৮৮৫ সালে চালু হওয়া লিসবনের গ্লোরিয়া ফিউনিকুলার ২৭৫ মিটার দীর্ঘ পাহাড়ি পথে যাত্রী পরিবহন করে। এটি শহরের ব্যস্ততম ও ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্রগুলোর একটি এবং লিসবনের প্রতীকী যান হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version