পর্তুগালের নাগরিকত্ব এবং স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত ‘পর্তুগিজ ভাষা শিক্ষা’ কোর্সকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি কৌঁসুলি দপ্তর এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ ইতিমধ্যে এই চক্রকে ধরতে তদন্ত শুরু করেছে।
জালিয়াতির ধরন ও কারণ:
পর্তুগালে নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের আবেদনের জন্য পর্তুগিজ ভাষার ‘এ২’ স্তরের দক্ষতা থাকা বাধ্যতামূলক। এই কোর্স সম্পন্ন করলে সরকারি ‘জাতীয়তা পরীক্ষা’ দেওয়া থেকে অব্যাহতি পাওয়া যায়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও চক্র অভিবাসীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভুয়া সার্টিফিকেট দিচ্ছে।
উচ্চ ফি: জালিয়াতির শিকার হওয়া অনেক অভিবাসী অনলাইন কোর্সের নামে কয়েক হাজার ইউরো খরচ করছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই ফি ৬,০০০ ইউরো পর্যন্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
ভুয়া প্রতিষ্ঠান: অনেক ক্ষেত্রে এমন সব প্রতিষ্ঠান থেকে সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে যেগুলোর কোনো আইনি স্বীকৃতি নেই।
প্রতীকের অপব্যবহার: এমনকি সরকারি সংস্থা আইইএফপি এর লোগো ব্যবহার করেও জাল সার্টিফিকেট তৈরি করা হচ্ছে।
পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, জাতীয় যোগ্যতা সংস্থা এবং ভাষা মূল্যায়ন কেন্দ্র থেকে অসংখ্য অভিযোগ তাদের কাছে জমা পড়েছে। ২০২৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত তিনটি বড় অভিযোগ সেন্ট্রাল ডিপার্টমেন্ট অফ ইনভেস্টিগেশন এন্ড ক্রিমিনাল অ্যাকশন এর কাছে পাঠানো হয়েছে। অভিবাসন সংস্থা এআইএমএ-র কর্মকর্তারা কিছু আবেদনকারীর উপস্থাপিত সনদে সন্দেহ প্রকাশ করলে এই জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে।
উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালেও তৎকালীন সীমান্ত পুলিশ একটি বড় চক্র ভেঙে দিয়েছিল যারা মূলত পূর্ব ইউরোপের নাগরিকদের ভুয়া সার্টিফিকেট সরবরাহ করত।
২০২০ সাল থেকে বর্তমানে এই কোর্সে ভর্তির সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী: ২০২০ সালে ভর্তির সংখ্যা ছিল ২২,০১৪ জন, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬,৩৯৭ জনে। দেখা গেছে ভর্তিকৃতদের প্রায় ৩৮% শেষ পর্যন্ত সার্টিফিকেট পেতে ব্যর্থ হন। ভারত (৫,০৪৫ জন), পাকিস্তান (২,২৯৭ জন) এবং বাংলাদেশ (২,১৯৮ জন) থেকে আসা অভিবাসীরাই মূলত এই কোর্সের প্রধান শিক্ষার্থী এবং জালিয়াতির বড় টার্গেট।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, শুধুমাত্র সরকারি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান যেমন: সরকারি স্কুল, আইইএফপি কেন্দ্রসমূহ, কোয়ালিফিকা সেন্টার এবং সরকার অনুমোদিত নির্দিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই এই কোর্স করা উচিত। ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে আবেদন করলে কেবল অর্থই হারাবেন না, বরং পর্তুগিজ নাগরিকত্ব বা বসবাসের আবেদন স্থায়ীভাবে বাতিল হতে পারে এবং ফৌজদারি মামলার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।


