যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের একটি ছোট ভুলের কারণে নিজের দুই বছরের মেয়ের কাছ থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছেন জার্মানির নাগরিক লিজা তোবায়। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করা এই নারী গত ইস্টার ছুটিতে তাঁর ছেলেকে নিয়ে জার্মানিতে আত্মীয়দের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফেরার পথে বিমানবন্দরে ডিজিটাল সিস্টেমে সমস্যার কারণে তাঁকে আর যুক্তরাজ্যে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাজ্যে থাকা বা ঢোকার ক্ষেত্রে ‘সেটেলড স্ট্যাটাস’ বা থাকার বৈধ অনুমতি থাকা বাধ্যতামূলক। লিজা তোবায় জানান, ফেরার সময় জার্মানির ডুসেলডর্ফ বিমানবন্দরে তাঁকে বলা হয়েছে যে তাঁর স্ট্যাটাস সিস্টেমে ‘লাল সংকেত’ দেখাচ্ছে। লিজা ইমেলের মাধ্যমে নিজের কাগজপত্রের প্রমাণ দিতে চাইলেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তা মানেনি। তাদের দাবি ছিল, এই স্ট্যাটাস শুধুমাত্র নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেই যাচাই করতে হবে, যা লিজার কাছে তখন ছিল না।
পরে লিজা নিজে খোঁজ নিয়ে দেখেন, হোম অফিসের ওয়েবসাইটে তাঁর পাসপোর্টের ছবি ঠিক থাকলেও নম্বরটি ভুলভাবে বসানো হয়েছে। এই যান্ত্রিক ভুলের কারণে কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানায় যে, এটি সমাধান হতে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে। এর মানে হলো, দীর্ঘ ২১ দিন তাঁকে তাঁর দুই বছরের কোলের শিশু থেকে দূরে থাকতে হবে। এই পরিস্থিতিকে লিজা অত্যন্ত ‘অমানবিক’ বলে বর্ণনা করেছেন।
এই ঘটনার পর থেকে যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল অভিবাসন ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন বলছে, শুধুমাত্র অ্যাপ বা ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে পরিচয়পত্র বা হাতে থাকা কার্ডের ব্যবস্থাও রাখা উচিত। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যেন সাধারণ মানুষকে এমন বিপদে পড়তে না হয়, সেই দাবি তুলেছেন তাঁরা। যদিও হোম অফিস জানিয়েছে যে তাঁরা লিজার সমস্যার সমাধান করেছেন, কিন্তু এই ঘটনা ডিজিটাল সিস্টেমের বড় ঝুঁকিগুলো আবারও সবার সামনে নিয়ে এসেছে।


