বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নজিরবিহীন শ্রম সংস্কারের দাবিতে দুটি প্রধান শ্রমিক ইউনিয়ন ফেডারেশন ধর্মঘট পালন করছে পর্তুগালে। ১১ ডিসেম্বর শুরু হওয়া ওই ধর্মঘটের প্রভাবে দেশটির বিভিন্ন শহরে কয়েক ডজন ফ্লাইট এবং ট্রেন বাতিল করতে হয়েছে। স্কুল বন্ধ এবং হাসপাতাল কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়েছে। অনেক এলাকায় গণপরিবহন পরিষেবা প্রায় অচল বলা যায়। বর্জ্য সংগ্রহের মতো কাজও বন্ধ হয়ে আছে।

সিজিটিপি এবং তুলনামূলক কম সহিংস ইউজিটি শেষবারের মতো জোটবদ্ধ হয়েছিল ২০১৩ সালে ইউরোজোনের ঋণ সংকটের সময়। তখন আন্তর্জাতিক তিনটি প্রতিষ্ঠানের জোট পর্তুগালের বেলআউটের অংশ হিসাবে বেতন এবং পেনশন কমানোর বুদ্ধি দিয়েছিল।

তার ১২ বছর পরে, পর্তুগালের অর্থনীতি ইউরোজোনের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে দ্রুত বড় হচ্ছে। কিন্তু দেশটির প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো বলেছেন, শ্রমবাজারে ‘অনমনীয়তা’ মোকাবেলা করা এখনও প্রয়োজন। এতে কোম্পানিগুলো আরও লাভজনক হতে পারে এবং শ্রমিকরা আরও ভাল বেতন পেতে পারে বলে মন্টিনিগ্রো মনে করছেন।

ধর্মঘটের ব্যাপারে পর্তুগিজ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, পর্তুগালকে সামনের সারিতে রাখার এবং ইউরোপে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকার ইচ্ছা থেকে সরে দাঁড়াবেন না তিনি। তবে, মন্টিনিগ্রোর সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট এমপিদের একজন ইউজিটি নির্বাহীর সঙ্গে আছেন। তিনি ধর্মঘটের পক্ষেও ভোট দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী গত মাসের শেষের দিকে শ্রমিক ফেডারেশনকে আলোচনার জন্য ডাকার পর কিছু প্রস্তাব পরিবর্তন করেছেন, কিন্তু স্পষ্টতই তা যথেষ্ট ছিল না। ১০০ টিরও বেশি প্রস্তাবের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিতগুলো হলো: নিয়োগকর্তাদের বছরের পর বছর ধরে অস্থায়ী চুক্তিগুলো রোল ওভার অর্থাৎ বাড়াতে দেওয়া, কর্মীদের বরখাস্ত করার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং তারপর অবিলম্বে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে তাদের পুনর্নিয়োগ করা, অন্যায়ভাবে বরখাস্ত করা কর্মীদের পুনর্বহাল করার প্রয়োজনীয়তা না ভাবা।

সিজিটিপি এই প্যাকেজটিকে সকল শ্রমিকের, বিশেষ করে নারী এবং তরুণদের অধিকারের উপর আক্রমণ বলে নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে ইউজিটি-র মতে, এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং একটি শক্তিশালী শ্রমবাজারের প্রেক্ষাপটে এতটাই অপ্রাসঙ্গিক যে, এটি নিয়োগকর্তাদের পক্ষে স্পষ্ট পক্ষপাত।

মন্টিনিগ্রোর শাসক জোটের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তারা ছোট, মুক্ত-বাজার লিবারেল ইনিশিয়েটিভ-এর কাছ থেকে বিলটির জন্য সমর্থন চাইছে। এমনকি কট্টর-ডানপন্থী রাজনৈতিক দল চেগার কাছ থেকেও একইরকম সমর্থন চাওয়া হয়েছে। দলটির নেতা আন্দ্রে ভেনচুরা জানিয়েছেন, তিনি আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। তবে কিছু পদক্ষেপ পারিবারিক জীবনকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে তা নিয়ে তার আপত্তি আছে।

অথচ নির্বাচনের আগে, মন্টিনিগ্রো চেগা-র সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছিলেন। এখন তার এমন অবস্থানের কারণে শ্রমিক ইউনিয়ন এবং দেশটির তৃতীয় বড় দল সমাজতন্ত্রীরা বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর মুখোশ খসে পড়েছে।

ডানপন্থী রাজনীতিবিদরা পর্তুগালের কর্মসংস্থান সুরক্ষাগুলো শিথিল করার জন্য দেশটির ১৯৭৬ সালের সংবিধান সংশোধন করতে চান। সেগুলো ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী কর্মসংস্থান সুরক্ষা হিসেবে বিবেচিত। জানুয়ারিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রচারণাতেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বেশ কয়েকজন প্রার্থী যুক্তি দিয়েছেন, শ্রম সংস্কার বিলটি পর্তুগালের ১৯৭৬ সালের সংবিধানকে লঙ্ঘন করে।

পর্তুগালের নিয়ম অনুযায়ী, দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান সংসদে অনুমোদিত বিলে স্বাক্ষর নাও করতে পারেন। বরং বিলগুলো পর্যালোচনার জন্য সাংবিধানিক আদালতে পাঠানো যেতে পারে, অথবা রাষ্ট্রপতি ভেটো দিতে পারেন। সেটা আবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠরা বাতিল করতে পারেন। এভাবে প্রক্রিয়াটি দেরি করিয়ে আরও আলোচনার সুযোগ তৈরি করে দেয়।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version