পর্তুগালের বর্তমান জনসংখ্যা বেড়ে এখন ১ কোটি ১৪ লাখে পৌঁছেছে। তবে দেশটির এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে এক চমকপ্রদ তথ্য পর্তুগালের এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির পুরো কৃতিত্বই আসলে সেখানে যাওয়া নতুন অভিবাসীদের। বর্তমানে দেশটির মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশই বিদেশি নাগরিক, যা গত মাত্র ৪ বছরের ব্যবধানে আকাশচুম্বী গতিতে বেড়ে ঠিক দ্বিগুণ হয়েছে।
পর্তুগালের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য প্রেসিডেন্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে তীব্র ‘বার্ধক্য সংকট’ বা প্রবীণ মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। দেশটিতে বর্তমানে প্রতি ১০ জন তরুণের বিপরীতে ১৯ জন প্রবীণ নাগরিক রয়েছেন। এই বিশাল জনতাত্ত্বিক ভারসাম্যহীনতার ঝড় সামাল দিয়ে দেশটির অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখছেন মূলত বিদেশি কর্মক্ষম তরুণরা। তথ্য অনুযায়ী, পর্তুগালে আসা অভিবাসীদের প্রায় ৮৬ শতাংশই তরুণ ও কর্মক্ষম, যারা দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি যেমন—কৃষি, পর্যটন (ট্যুরিজম) এবং নির্মাণ খাতের (কনস্ট্রাকশন) তীব্র শ্রমঘাটতি একাই পূরণ করছেন।
পর্তুগালে থাকা বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি ব্রাজিলের হলেও, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও নেপালের পাশাপাশি বাংলাদেশিরাও এখন অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। সরকারি হিসাব মতে, বর্তমানে পর্তুগালে প্রায় ৫৬ হাজার ৭২৪ জন বাংলাদেশি অভিবাসী বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করছেন।
ভৌগোলিক দিক থেকে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে সবচেয়ে বেশি বিদেশি নাগরিক বসবাস করলেও, জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক থেকে সবার শীর্ষে রয়েছে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ফারো বা আলগার্ভ অঞ্চল। এই আলগার্ভ অঞ্চলের মোট বাসিন্দাদের প্রায় ২৮ শতাংশই বিদেশি অভিবাসী।
পর্তুগালের বর্তমান পরিসংখ্যান স্পষ্ট বলছে যে, স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে মৃত্যুহার জন্মহারকে ছাড়িয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটিতে নতুন অভিবাসন বা বিদেশি কর্মী আসা বন্ধ হলে পুরো দেশের সামাজিক পেনশন ব্যবস্থা এবং শ্রমবাজার ভেঙে পড়বে। অর্থাৎ, আজকের আধুনিক পর্তুগালের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রধান চালিকাশক্তিই হলেন প্রবাসী ও অভিবাসীরা।
তথ্যসূত্র: দ্য প্রেসিডেন্ট
