পর্তুগালে গত এক বছরে গড় বার্ষিক বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় আয়ের তুলনায় দেশটি এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ‘অ্যাসোসিয়েশন বিজনেস রাউন্ডটেবিল পর্তুগাল’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পর্তুগিজদের গড় আয় ইইউ-র গড় আয়ের চেয়ে প্রায় ৩৮ শতাংশ কম। ইউরোপের শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলোর সাথে পাল্লা দিতে পর্তুগালকে আয়ের এই বৈষম্য কমানোর বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, পর্তুগালে গড় বার্ষিক বেতন ১,৬০০ ইউরো বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪,৮০০ ইউরোতে। তবে বিপরীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় বার্ষিক বেতন ৩৯,৮০০ ইউরো। অর্থাৎ, ইইউ-র একজন গড় কর্মী পর্তুগালের একজন কর্মীর চেয়ে বছরে প্রায় ১৫,০০০ ইউরো (বা ৬০ শতাংশ) বেশি আয় করেন। এমনকি প্রতিযোগী দেশ স্পেন, ইতালি বা পোল্যান্ডের গড় আয়ও (২৬,৩০০ ইউরো) পর্তুগালের চেয়ে ১,৫০০ ইউরো বেশি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পর্তুগালে গত কয়েক বছরে কর্মসংস্থান বাড়লেও নতুন তৈরি হওয়া কাজগুলোর বড় অংশই ছিল কম বেতনের খাতগুলোতে। তবে আয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বৈষম্য দেখা গেছে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কাজ এবং সাধারণ শ্রমনির্ভর কাজের মধ্যে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে পর্তুগালে আয়ের চিত্র সবচেয়ে ইতিবাচক। এই খাতে গড় বার্ষিক আয় ৪০,০০০ ইউরোর উপরে, যা গত চার বছরে দেশটিতে ৪২ শতাংশ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। এছাড়া জ্বালানি, পরিবেশ এবং পরিবহন খাতে গড় বার্ষিক আয় প্রায় ৩৩,০০০ ইউরোর কাছাকাছি হলেও সাধারণ শিল্প খাতে তা ২৫,৮০০ ইউরোতে সীমাবদ্ধ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পর্তুগাল ধীরে ধীরে উচ্চ আয়ের ও দক্ষ শ্রমবাজারের দিকে ঝুঁকেও আয়ের এই বিশাল বৈশ্বিক ব্যবধান ঘোচাতে পারছে না, যা ভবিষ্যতে দক্ষ জনশক্তি ধরে রাখার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তথ্যসূত্র: সিস নোটিসিয়াস


