সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান ‘মেটা-র’ বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বুধবার ইউরোপীয় কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রবেশ বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি, যা ইউরোপের কঠোর অনলাইন নিরাপত্তা আইনের পরিপন্থী।
কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে যে, মেটা-র শর্তাবলীতে ১৩ বছরের নিচে অ্যাকাউন্ট খোলার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে এর কোনো সঠিক প্রয়োগ নেই। শিশুরা খুব সহজেই ভুয়া জন্ম তারিখ ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খুলছে এবং মেটা-র পক্ষ থেকে তা যাচাই করার কোনো জোরালো ব্যবস্থা নেই। এছাড়া, কোনো নাবালকের বিষয়ে রিপোর্ট করার প্রক্রিয়াটিও মেটা উদ্দেশ্যমূলকভাবে জটিল করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইইউ-র মতে, এই রিপোর্ট ফর্মটি খুঁজে পেতেই অন্তত সাতবার ক্লিক করতে হয়, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বিভ্রান্তিকর এবং সময়সাপেক্ষ।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ডিজিটাল সার্ভিস অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে বাধ্য। ইইউ-র ডিজিটাল প্রধান হেনা ভিরকুনেন স্পষ্ট জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীর শর্তাবলি কেবল লিখিত বিবৃতি হলে চলবে না, বরং এর বাস্তব ও কার্যকর প্রয়োগ থাকতে হবে। বর্তমানে এই অভিযোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও, দোষী প্রমাণিত হলে মেটা-কে তাদের বিশ্বব্যাপী বার্ষিক আয়ের একটি বড় অংশ জরিমানা হিসেবে গুনতে হতে পারে।
শিশুদের সামাজিক মাধ্যম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন না করে বরং তাদের বয়স যাচাইয়ের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে ইউরোপ। এই লক্ষ্যেই ইইউ সম্প্রতি একটি নতুন ‘এজ ভেরিফিকেশন অ্যাপ’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রেখেই বয়স নিশ্চিত করতে পারবেন।
তথ্যসূত্র: ডি ডব্লিউ


