শ্রমিক দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত পোরডাটা-র সর্বশেষ পরিসংখ্যানে পর্তুগালের শ্রমবাজারের এক অমীমাংসিত চিত্র উঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, পর্তুগালে কর্মসংস্থানের হার ইউরোপীয় গড়কে ছাড়িয়ে গেলেও, দেশটি এখনও কম মজুরি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং চাকরির অনিশ্চয়তার মতো পুরোনো সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। পর্তুগাল বর্তমানে ইউরোপের সেই দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে যেখানে শ্রমিকদের সবচেয়ে বেশি সময় কাজ করতে হয়, অথচ মাস শেষে তাদের পারিশ্রমিক থাকে গড়ের চেয়ে অনেক কম।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নে পর্তুগালের কর্মসংস্থানের হার ৭৯.৬%, যা ইইউ-র গড় (৭৬.১%) হার থেকে বেশ উঁচুতে। বিশেষ করে ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে পর্তুগাল ইউরোপের মধ্যে সপ্তম স্থানে রয়েছে। তবে এই ইতিবাচক দিকটি ঢাকা পড়ে যাচ্ছে কাজের চাপের কাছে। পর্তুগিজ কর্মীরা সপ্তাহে গড়ে ৩৯.৭ ঘণ্টা কাজ করেন, যেখানে ইউরোপীয় গড় মাত্র ৩৭ ঘণ্টা। এর চেয়ে বেশি সময় কাজ করতে হয় কেবল বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, পোল্যান্ড এবং গ্রিসের শ্রমিকদের।
সবচেয়ে হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে মজুরির ক্ষেত্রে। পর্তুগালে গড় মাসিক বেতন ২,০৬৮ ইউরো, যা ইউরোপীয় গড় ৩,৩১৭ ইউরোর তুলনায় প্রায় ১,২৫০ ইউরো কম। অর্থাৎ, একজন পর্তুগিজ কর্মী ইউরোপের অন্যান্য দেশের কর্মীদের তুলনায় বছরে গড়ে ১৫,০০০ ইউরো কম উপার্জন করেন। এছাড়া চাকরির অনিশ্চয়তাও পর্তুগালের শ্রমবাজারের একটি স্থায়ী ক্ষত; যেখানে প্রায় ১৫% কর্মচারী কাজ করেন অস্থায়ী চুক্তিতে। এই নাজুক পরিস্থিতিতে শ্রমমন্ত্রী মারিয়া রোসারিও পালমা রামালহোর নেতৃত্বাধীন লুইস মন্টেনিগ্রো সরকার শ্রম আইনের ১০০টিরও বেশি ধারা সংশোধন করতে চাইলেও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর সাথে এখনও ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে বরখাস্তকরণ ব্যবস্থা এবং আউটসোর্সিংয়ের নমনীয়তা নিয়ে সরকার ও ইউনিয়নের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ বিরাজ করছে।
তথ্যসূত্র: সিস নটিসিয়াস


