আল্পস পর্বতমালার গভীর তলদেশে এক বিস্ময়কর প্রকৌশলযজ্ঞের মাধ্যমে উত্তর ও দক্ষিণ ইউরোপের দূরত্ব ঘুচিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। অস্ট্রিয়া ও ইতালির সংযোগস্থল ‘ব্রেনার পাস’-এ নির্মিত হচ্ছে ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বিশ্বের দীর্ঘতম ভূগর্ভস্থ রেলপথ ‘ব্রেনার বেস টানেল’। ১১টি ইউরোপীয় জাতির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাস্তবায়িত এই মেগা প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটি যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে এবং প্রকৌশলগত নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়বে।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ব্যবহৃত হচ্ছে ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ‘হেরেনকনেখ্ট’ এর দানবীয় আটটি টানেলিং মেশিন। প্রকল্পের ব্যবস্থাপক সেবাস্টিয়ান রিম্যান জানান, একেকটি ৬,০০০ হর্সপাওয়ার সম্পন্ন এবং প্রায় ২০ মিটার উচ্চতার এই মেশিনগুলো আধুনিক প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষ। তবে এই নির্মাণকাজের সমান্তরালে ইউরোপীয় বাজারে চীনা পণ্যের আধিপত্য নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ‘হেরেনকনেখ্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা মার্টিন হেরেনকনেখ্ট সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, চীন সস্তা ইস্পাত এবং কম মজুরির সুবিধা নিয়ে ইউরোপের বাজারে অসম প্রতিযোগিতা বা ‘প্রাইস ডাম্পিং’ তৈরি করছে।
মার্টিন হেরেনকনেখ্ট ইউরোনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউরোপীয় শিল্পকে বাঁচাতে সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে ‘মেড ইন ইউরোপ’ পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি তুলেছেন। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, চীনের বিরুদ্ধে কঠোর শুল্ক আরোপ না করলে ইউরোপীয় শিল্প ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এমনকি বর্তমান বিশ্ববাণিজ্য পরিস্থিতিতে চীন ও রাশিয়াকে বাদ দিয়ে একটি নতুন বাণিজ্য সংস্থা গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি সামনে এনেছেন। ফলে ‘ব্রেনার বেস টানেল’ এখন কেবল একটি যাতায়াত মাধ্যম নয়, বরং এটি ইউরোপ বনাম চীনের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত লড়াইয়ের এক নতুন ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ইউরো নিউজ


