মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের চলমান সংঘাত ইউরোপের জন্য বড় ধরনের অভিবাসন সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই যুদ্ধের কারণে যদি ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, তবে হাজার হাজার মানুষ জীবন বাঁচাতে ইউরোপের দিকে ছুটবে, যা জার্মানি ও প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।
মিউনিখে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ম্যার্ৎস সিরিয়া যুদ্ধের ভয়াবহ স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “আমরা সিরিয়ার মতো পরিস্থিতি আর দেখতে চাই না।” তার মতে, ইরান যদি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে, তবে এর প্রভাব কেবল ওই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ইউরোপের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধস নামবে।
একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। সংস্থাটির মহাপরিচালক অ্যামি পোপ ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য আগে থেকেই একটি অস্থিতিশীল অঞ্চল। এখনকার এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সেখানকার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সীমান্ত পাড়ি দিতে বাধ্য হবে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকার ইতিমধ্যে এই সম্ভাব্য ‘শরণার্থী ঢল’ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
জার্মানি বর্তমানে কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা করছে যাতে ইরানের পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়। ম্যার্ৎস স্পষ্ট করেছেন যে, নতুন করে শরণার্থী সমস্যা এড়ানো এখন জার্মানি তথা পুরো ইউরোপের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক স্বার্থে পরিণত হয়েছে।
