ইউরোপের অন্যান্য দেশ যখন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে, স্পেন তখন ঠিক উল্টো পথে হেঁটে এক ঐতিহাসিক নজির স্থাপন করেছে। স্পেনে বসবাসরত কয়েক লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার লক্ষ্যে ঘোষিত ‘অ্যামনেস্টি’ বা সাধারণ ক্ষমার প্রথম তিন দিনেই ৪২,৭৯০ জন মানুষ আবেদন জমা দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার অনলাইন প্রক্রিয়া চালুর পর থেকে সোমবার পর্যন্ত এই বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ে, যা দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আগামী ৩০শে জুন ২০২৬ পর্যন্ত এই আবেদনের সুযোগ থাকবে এবং সরকারের ধারণা অনুযায়ী প্রায় ৫ থেকে ৮ লাখ অভিবাসী এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইনি মর্যাদা ফিরে পেতে পারেন।
এই প্রকল্পের আওতায় যারা অন্তত পাঁচ মাস ধরে স্পেনে বসবাস করছেন এবং যাদের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তারা এক বছরের নবায়নযোগ্য রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারছেন। আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে সারা দেশে ৩৭০টিরও বেশি পোস্ট অফিস এবং ৬০টি সোশ্যাল সিকিউরিটি অফিসসহ নির্দিষ্ট অভিবাসন কেন্দ্রগুলো কাজ করে যাচ্ছে। মাদ্রিদ ও বার্সেলোনায় আবেদনকারীদের ভিড় থাকলেও অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া থাকলে প্রক্রিয়াটি বেশ দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। বৈধতা পাওয়ার পর এই বিশাল জনশক্তি স্পেনের শ্রমবাজারে সরাসরি অবদান রাখতে পারবে, যা দেশটির ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই পদক্ষেপকে ‘ন্যায়বিচার ও প্রয়োজনীয়তা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সরকারের মতে, বার্ধক্যের দিকে ধাবিত স্প্যানিশ জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা এবং কৃষি, পর্যটন ও সেবা খাতের শ্রমিক সংকট নিরসনে এই নতুন শ্রমশক্তি অপরিহার্য। অনথিভুক্ত অভিবাসীদের আইনি কাঠামোর আওতায় আনলে তারা কর প্রদান করবেন এবং সোশ্যাল সিকিউরিটিতে অবদান রাখবেন, যা রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে সমৃদ্ধ করবে। ব্যবসায়ী সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোও সরকারের এই মানবিক ও অর্থনৈতিক দূরদর্শী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ১৯৮৬ সালের পর এ নিয়ে সাতবার এমন বড় ধরণের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করল স্পেন।


