মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার দাবানল এবার সরাসরি আঘাত হেনেছে বিশ্ব বিমান পরিষেবা খাতে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে নামী-দামী সব এয়ারলাইনস। পরিস্থিতির মোকাবিলায় হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল করার পাশাপাশি টিকিটের দাম ও ফুয়েল সারচার্জ (জ্বালানি কর) বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ক্যাথে প্যাসিফিক, এয়ার এশিয়া ও ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের মতো জায়ান্টরা। বিশেষজ্ঞরা এই নজিরবিহীন পরিস্থিতিকে বিমান চলাচল খাতের জন্য এক ভয়াবহ ‘পারফেক্ট স্টর্ম’ বা চরম সংকটকাল হিসেবে অভিহিত করছেন।
আঞ্চলিক শোধনাগারগুলোতে হামলা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহনে বাধার কারণে গত তিন সপ্তাহে জেট ফুয়েলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এর ফলে ক্যাথে প্যাসিফিক তাদের সব রুটে ফুয়েল সারচার্জ বাড়িয়েছে এবং এয়ার এশিয়া ও থাই এয়ারওয়েজ টিকিটের দাম ১৫% পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া এয়ার নিউজিল্যান্ড অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ১০ থেকে ৯০ ডলার পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধি করেছে। ক্যাথে প্যাসিফিকের প্রধান নির্বাহী রোনাল্ড লাম জানিয়েছেন, চলতি মাসে তাঁদের জ্বালানি খরচ আগের দুই মাসের গড় খরচের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে, যা সামলানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
জ্বালানির এই আকাশছোঁয়া মূল্যের কারণে কেবল ভাড়াই বাড়ছে না, বরং সক্ষমতা কমিয়ে আনছে সংস্থাগুলো। ইউনাইটেড এয়ারলাইনস তাদের নির্ধারিত ফ্লাইটের ৫% এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ান সংস্থা এসএএস কেবল এপ্রিল মাসেই প্রায় এক হাজার ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভিয়েতনাম এয়ারলাইনস ও এয়ার নিউজিল্যান্ডের হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন লাখ লাখ যাত্রী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা কমলেও আগামী কয়েক মাস বিমান ভাড়া কমার কোনো সম্ভাবনা নেই, বরং সাধারণ যাত্রীদের জন্য আকাশপথের ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠবে।
