বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আগামী বছর থেকে আগাম অনুমতি ছাড়া যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ করা যাবে না। ভিসা-মুক্ত ৮৫টি দেশের নাগরিকদের ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে দেশে প্রবেশের আগে নিতে হবে ডিজিটাল ট্রাভেল পারমিট, ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন-ইটিএ (ETA)। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও ইইউ দেশগুলোও এই তালিকায় রয়েছে।

ভ্রমণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, ‘অনুমতি ছাড়া, ভ্রমণও নয়’-এই নীতির আওতায় ETA বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। অর্থাৎ অনুমতি ছাড়া কোনো যাত্রী নিজ দেশ থেকেই যুক্তরাজ্যগামী বিমানে উঠতে পারবেন না। ২০২৩ সালের অক্টোবরে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ETA’ চালু হলেও ২০২৬ সাল থেকে পুরোপুরি বাস্তবায়ন শুরু হবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৩.৩ মিলিয়নের বেশি ‘ETA’ ইস্যু করা হয়েছে।

ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন-ETA কী?

‘ETA’ হলো যুক্তরাজ্যে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য একটি ডিজিটাল পারমিট, যা ভিসার মতো নয়, বরং যুক্তরাজ্যে আগাম প্রবেশ অনুমতি। যেসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশে ভিসা লাগে না, পর্যটন ও পারিবারিক ভিজিট বা স্বল্পমেয়াদি অবস্থানের ক্ষেত্রে এই অনুমতি নিয়ে সর্বোচ্চ ৬ মাস যুক্তরাজ্যে থাকা যাবে। ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ব্রাজিল, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৮৫টি দেশের নাগরিকদের ‘ETA’ লাগবে।

 ‘ETA’-এর বাইরে কারা

ব্রিটিশ ও আইরিশ নাগরিকরা (ডুয়াল সিটিজেনসহ), ট্রানজিট যাত্রীরা, যারা হিথ্রো বা ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পার না করেই কেবল ফ্লাইট পরিবর্তন করবেন। তবে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিকদের অবশ্যই বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট বা ব্রিটিশ নাগরিকত্বের অধিকার সনদ সঙ্গে রাখতে হবে, অন্যথায় বোর্ডিং অস্বীকৃত হতে পারে।

যেভাবে  ‘ETA’- আবেদন করা যাবে

ইউকে ইটিএ (ETA) অ্যাপ বা ইউকে সরকারি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। এতে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে £১৬ পাউন্ড যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ হাজার ৬২০ টাকা। আবেদন করার সময়, যোগাযোগ ও পাসপোর্টের তথ্য এবং একটি বৈধ ছবি দিতে হবে।

বেশিরভাগ আবেদনকারীর সিদ্ধান্ত কয়েক মিনিটেই পাওয়া গেলেও, সরকার ভ্রমণের কমপক্ষে ৩ কার্যদিবস আগে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে। ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ETA) এর মেয়াদ হবে দুই বছর পর্যন্ত, বা পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত (যেটি আগে শেষ হবে)।

যেসব কারণে যুক্তরাজ্য ETA’ চালু করছে

যুক্তরাজ্য সরকার বলছে…

নতুন এই ডিজিটাল অনুমতি ব্যবস্থার লক্ষ্য, ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল রূপান্তর, ভবিষ্যতে কনট্যাক্টলেস বর্ডার ব্যবস্থা চালুর ভিত্তি তৈরি, আগাম স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও ভ্রমণ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্ন করা

যুক্তরাজ্যের মাইগ্রেশন ও সিটিজেনশিপমন্ত্রী মাইক ট্যাপ বলেন…

‘ETA’ আমাদেরকে যেসব ব্যক্তি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তাদের আগেই শনাক্ত করার ক্ষমতা দেয়। পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যবস্থা ভ্রমণকারীদের অভিজ্ঞতাও আরও সহজ করবে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রেক্সিট পরবর্তী সীমান্ত নীতিকে আধুনিক ও কঠোর করার অংশ হিসেবেই ‘ETA’ চালু হয়েছে। ইইউ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় অংশের ভিসামুক্ত ভ্রমণকারীরা এতে যুক্ত হওয়ায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশের আগে সব যাত্রীর তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যাবস্থায় সংরক্ষিত হবে, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version