রাশিয়া যদি কোনো ন্যাটো সদস্য দেশে হামলা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই ইউরোপকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে এমন এক বিস্ফোরক প্রশ্ন তুলেছেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডনাল্ড টাস্ক। শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই সংশয় প্রকাশ করেন। টাস্ক সতর্ক করে বলেন, কয়েক মাসের মধ্যেই রাশিয়া ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশে হামলা চালাতে পারে—এটি কোনো দূরের আশঙ্কা নয়, বরং বর্তমান বাস্তবতায় একটি আসন্ন ঝুঁকি। এমতাবস্থায় ন্যাটো চুক্তির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে কি না, তা নিয়ে ইউরোপের রাজনৈতিক মহলে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ডনাল্ড টাস্ক ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা বা ‘আর্টিকেল ৫’-এর কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, শুধু কাগজে চুক্তি থাকলেই হবে না, প্রয়োজনে বাস্তব সামরিক প্রস্তুতিও থাকতে হবে। গত বছরের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রায় ২০টি রুশ ড্রোন পোল্যান্ডের আকাশসীমায় ঢুকে পড়লেও অনেক মিত্র দেশ সেটিকে গুরুত্ব দিতে চায়নি। এই উদাসীনতা ইউরোপের নিরাপত্তা জোটকে দুর্বল করছে বলে তিনি মনে করেন। তাই ইউরোপীয় ইউনিয়নকে কেবল নামমাত্র নয়, বরং একটি ‘বাস্তব শক্তিশালী সামরিক জোট’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ফ্রান্স ও পোল্যান্ড ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলে একটি যৌথ সামরিক মহড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাল্টিক সাগর ও উত্তর পোল্যান্ডে আয়োজিত হতে যাওয়া এই মহড়ায় ফ্রান্সের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়া ও বেলারুশের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলার মহড়া চালানো হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। টাস্কের মতে, সত্যিকারের জোট হতে হলে সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দেওয়া এখন সময়ের দাবি। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
তথ্যসূত্র: সময় টিভি
