বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদেশে কর্মরত প্রবাসী নারীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। বিশেষ করে ইউরোপসহ উন্নত দেশে বসবাসরত এনআরবি (Non-Resident Bangladeshi) নারীরা সন্তান জন্মের পর আবার কর্মক্ষেত্রে ফিরতে গিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারেন। পরিবার থেকে দূরে, ভিন্ন সংস্কৃতি ও কর্মপরিবেশে কাজ করায় সেই দেশ ও দেশের সংস্কৃতির সাথে মানানসই প্রস্তুতি নেওয়াটা জরুরি।

১. শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি

প্রসবের পর শরীর ও মনে পরিবর্তন আসে। তাই কাজে ফেরার আগে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিজের শারীরিক অবস্থা, ঘুম ও মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নিন। ইউরোপে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের জন্য কাউন্সেলিং সুবিধা দিয়ে থাকে। প্রয়োজনে সেগুলো গ্রহণ করতে পারেন।

২. কর্মক্ষেত্রের নীতি জেনে নিন

বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশে মাতৃত্বকালীন ও পিতৃত্বকালীন ছুটির জন্য আলাদা নীতি রয়েছে। কাজে ফেরার আগে নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে কর্মঘণ্টা, ফ্লেক্সিবল ওয়ার্ক, কিংবা হাইব্রিড সিস্টেমের সুবিধা আছে কিনা জেনে নিন। এতে কাজ ও পরিবার সামলানো সহজ হবে।

৩. শিশুর যত্নের ব্যবস্থা

প্রবাসী এনআরবি নারীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো শিশুর যত্ন। অনেকে আবার গর্ভকালীন ছুটির সময়টা দেশে কাটিয়ে আসতে চান। কিন্তু সন্তান প্রসবের পর দেশ থেকে ফিরে এসে ইউরোপ-আমেরিকার আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নিতে বেশ বেগ পেতে হয়। তাই দেশে ফিরে যাওয়ার চেয়ে প্রবাসে থেকেই সন্তান জন্মদান ভালো বলে বিশেষজ্ঞরা মত দেন। বরং এই সময় প্রয়োজন হলে সার্বক্ষনিক নার্স রাখা যেতে পারে। বেশির ভাগ সময় পরিবারের সহায়তা না থাকায় ডে-কেয়ার বা চাইল্ডকেয়ার সেন্টারের উপর নির্ভর করতে হয়। সন্তান জন্মদানের পর বেশির ভাগ সময় পরিবারের সহায়তা না থাকায় ডে-কেয়ার বা চাইল্ডকেয়ার সেন্টারের উপর নির্ভর করতে হয়। তাই আগে থেকেই স্থানীয় নিরাপদ চাইল্ড কেয়ার সেন্টার বেছে নিন। বিশেষ করে আপনার বাসস্থানের কাছে, কিংবা অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে পড়ে এমন চাইল্ড কেয়ার সেন্টার বেছে নেবার চেষ্টা করবেন।

৪. সময় ব্যবস্থাপনা শিখুন

শিশুর যত্ন, গৃহস্থালি কাজ ও অফিস – সব মিলিয়ে সময় ব্যবস্থাপনা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য নির্দিষ্টকরে শুধুমাত্র অফিসের কাজকে প্রাধান্য না দিয়ে বরং অফিস ও বাসার কাজের তালিকা তৈরি করুন। তারপর তালিকে থেকে কোন কাজটিগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে সেগুলোর একটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ লিস্ট করুন। যদি দেখেন প্রচলিত ৮ ঘন্টার অফিস করা সম্ভব হচ্ছে না প্রয়োজনে পার্ট-টাইম কাজ দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে ফুল-টাইমে যেতে পারেন।

৫. সাপোর্ট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন

বিদেশে থাকা প্রবাসী নারীদের জন্য কমিউনিটি গ্রুপ, নারী সংগঠন বা অনলাইন সাপোর্ট গ্রুপ অনেক সহায়ক হতে পারে। এসব নেটওয়ার্ক শুধু মানসিক সাপোর্টই দেয় না, শিশুর যত্ন থেকে শুরু করে কর্মজীবনে ভারসাম্য আনার ক্ষেত্রেও দিকনির্দেশনা দেয়।

৬. নিজের জন্য সময় রাখুন

মায়েরা প্রায়ই নিজের প্রয়োজন ভুলে যান। অথচ স্বাস্থ্যকর জীবনধারা, পুষ্টিকর খাদ্য, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও হালকা ব্যায়াম দ্রুত সুস্থ করে তুলতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। তাই নিজের যত্ন, শখ ও রিল্যাক্সেশনের জন্য সময় বের করুন।

ইউরোপ ও অন্যান্য দেশে কর্মরত এনআরবি নারীদের জন্য মাতৃত্বকালীন বিরতির পর কর্মজীবনে ফেরা একটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজ। প্রায় সব প্রবাসী বাংলাদেশি মায়েদের জন্য এ এক নতুন অভিজ্ঞতা। অনেকে এসময়টা কিভাবে সামলাবেন এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন। তবে সঠিক পরিকল্পনা, সাপোর্ট ও মানসিক দৃঢ়তা থাকলে সহজেই সবকিছু ম্যানেজ করা যায়।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version