মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে কাতার সাময়িকভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন স্থগিত করায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে সোমবার (২রা মার্চ) ইউরোপের প্রধান বাজারগুলোতে গ্যাসের দাম একলাফে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মহাদেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও ইউরোনিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে গ্যাসের মূল্য আকাশচুম্বী হয়েছে। স্কটল্যান্ডভিত্তিক জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উড ম্যাকেঞ্জি’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসিমো দি ওদোয়ার্দো জানান, কাতারের এই সিদ্ধান্তের ফলে খুব শিগগিরই এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে গ্যাস আমদানি নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।
গ্যাস বাজারে প্রতি ১০ লাখ ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) গ্যাসের দাম বেড়ে ১৫ দশমিক ৯২ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে লেনদেন শুরু হওয়ার পরপরই দাম ২৫ শতাংশ বাড়লেও দিনশেষে তা আরও বড় লাফ দেয়।
একই চিত্র দেখা গেছে এশিয়ার বাজারেও। সেখানে এলএনজির মূল্য প্রায় ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ১০ লাখ এমএমবিটিইউ গ্যাসের দাম দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৬৮ মার্কিন ডলারে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক গ্যাস বাণিজ্যে শক্তির একক হিসেবে ‘ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট’ (বিটিইউ) ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানায় ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।


