বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম কমাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বা “আত্মঘাতী” বলে বর্ণনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউরোপীয় কমিশনার ভালদিস ডোমব্রোভস্কিস সতর্ক করে বলেছেন, এখন যদি রাশিয়াকে ছাড় দেওয়া হয়, তবে তা হবে নিজের পায়ে কুড়াল মারার মতো। এতে রাশিয়ার যুদ্ধের তহবিল আরও শক্তিশালী হবে এবং ইউক্রেনের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে।
ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি কিছু দেশের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করতে পারেন। যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে রাশিয়ার নাম বলেননি, তবে সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে তার ফোনালাপের পর থেকেই জল্পনা বাড়ছে যে, মস্কোকে তেলের বাজারে বড় কোনো সুবিধা দেওয়া হতে পারে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ভারতকে আটকে থাকা রুশ তেল কেনার অনুমতি দিয়ে তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
ইউরোপের নেতারা মনে করছেন, তেলের দাম বেড়ে যাওয়াকে পুতিন একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন। রাশিয়া এখন ইউরোপে আবারও জ্বালানি তেল ও গ্যাস বিক্রি করতে মরিয়া, কারণ এতে তাদের যুদ্ধ বাজেটে প্রচুর নতুন অর্থের জোগান আসবে। অন্যদিকে, হাঙ্গেরির মতো কিছু দেশ রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে, যা ইউরোপের ঐক্যকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের দাম যত বেশি থাকবে, রাশিয়ার আয় তত বাড়বে। এই সময়ে যদি নিষেধাজ্ঞায় কোনো ছাড় দেওয়া হয়, তবে তা রাশিয়ার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলবে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে। তাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা রাশিয়ার ওপর সর্বোচ্চ চাপ বজায় রাখতে চায় এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর মূল্যসীমা কার্যকর করার পক্ষে।


