ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশেষ তহবিল এবং সরকারি নানা আশ্বাসের পরেও স্পেনের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। আজ ৭ই এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত স্পেনের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। ২০২১ সালের পর গত বছরই স্পেনে বিনিয়োগের পরিমাণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা দেশটির নীতিনির্ধারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
২০২৪ সালে স্পেনে যেখানে ৩৯.৩৫ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ এসেছিল, ২০২৫ সালে তা ২১.৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০.৭৬ বিলিয়ন ইউরোতে। এমনকি নিট বিনিয়োগের (বিলোপ বা ডিসইনভেস্টমেন্ট বাদ দিয়ে) ক্ষেত্রেও ১০ শতাংশ পতন দেখা গেছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, জাতিসংঘের তথ্যমতে যখন বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগ ১৪ শতাংশ বেড়েছে, তখন স্পেনে এই নিম্নমুখী প্রবণতা বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়ে তুলছে।
স্পেনের মোট বিনিয়োগের অর্ধেকেরও বেশি (১৬ বিলিয়ন ইউরো) একাই টেনে নিয়েছে রাজধানী মাদ্রিদ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কাতালোনিয়া পেয়েছে মাত্র ৪.৫১ বিলিয়ন ইউরো। প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির কল্যাণে আরাগন ও আন্দালুসিয়া কিছুটা বিনিয়োগ পেলেও বাকি অঞ্চলগুলো ১ বিলিয়ন ইউরোর কোটাও স্পর্শ করতে পারেনি। বিনিয়োগের এই কেন্দ্রীয়করণ স্পেনের অন্যান্য অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বিনিয়োগে ধস নামলেও স্পেনের ওপর আস্থা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর তারা প্রায় ১০ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করেছে, যার সিংহভাগই এসেছে ডাটা সেন্টার এবং উন্নত প্রযুক্তি প্রকল্পে। তবে সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নীতিমালার অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার কারণে স্পেন তার আকর্ষণ হারাচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজের সরকার একসময় স্পেনকে বিনিয়োগের স্বর্গরাজ্য দাবি করলেও বর্তমান মন্দার পর সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।


