ফ্রান্সের পর্যটন শহর নিসে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত সরকারি ভাতা (আদা) জালিয়াতির দায়ে ৫৮ বছর বয়সি এক ব্যবসায়ীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার নিসের প্রসিকিউটর দামিয়া মার্তিনেল্লি জানান, অভিযুক্ত ওই ব্যবসায়ী ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫০ লাখ ইউরো আত্মসাৎ করেছেন। আদালত তাকে সংঘবদ্ধ জালিয়াতি ও অর্থপাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ ইউরো জরিমানা করেছে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ওপর আজীবন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যবসায়ী তার মালিকানাধীন তিনটি দোকানে এক অভিনব জালিয়াতি চক্র গড়ে তুলেছিলেন। ফ্রান্সে অভিবাসন ও ইন্টিগ্রেশন বিষয়ক দপ্তর (অফি) প্রদত্ত কার্ডের মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারলেও নগদ অর্থ তুলতে পারেন না। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ওই ব্যবসায়ী ভুয়া কেনাকাটা দেখিয়ে কার্ডের অর্থ নগদে রূপান্তর করে দিতেন। বিনিময়ে তিনি ১০ শতাংশ কমিশন রাখতেন এবং বাকি ৯০ শতাংশ অর্থ কার্ডধারীদের ফেরত দিতেন। ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রায় ৩ হাজার ৯০০টি কার্ড ব্যবহার করে এই বিশাল অংকের অর্থ লেনদেন করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে ইতালি, জার্মানি ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করা হতো।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পুলিশের এক অভিযানের মাধ্যমে এই জালিয়াতি চক্রের সন্ধান মেলে। পরবর্তীতে ৫ মে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে আটক করা হলে তিনি সব অভিযোগ স্বীকার করেন। অভিযান চালিয়ে তার বাড়ি ও দোকান থেকে নগদ অর্থ ও দুইটি গাড়িসহ প্রায় এক লাখ ইউরোর বেশি সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। আদালত রাষ্ট্রের পাওনা অর্থ পরিশোধের পাশাপাশি তার যাবতীয় সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই রায়কে ফ্রান্সে সরকারি অর্থ জালিয়াতি ও অভিবাসন খাতের অনিয়ম রোধে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ইনফো মাইগ্রেন্টস বাংলা


