পর্তুগালে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও একাকীত্বের প্রকোপ গত এক দশকে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আইএসসিটিই কর্তৃক পরিচালিত ‘পর্তুগালে বন্ধুত্ব’ শীর্ষক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে পর্তুগিজদের ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এবং নিম্ন আয়ের মানুষেরা এই একাকীত্বের শিকার সবথেকে বেশি হচ্ছেন। গবেষকরা বলছেন, পর্তুগাল এখন তরুণ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার বৈশ্বিক প্রবণতার একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গবেষণার সমন্বয়ক লুইসা লিমা জানিয়েছেন, ২০ মে থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মানুষের সামাজিক সম্পৃক্ততা কমলেও অবাক করার মতো বিষয় হলো—প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ এই পরিবর্তনটি অনুভবই করতে পারছেন না। সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা একা থাকেন তাদের মধ্যে একাকীত্ব ৩৩ শতাংশ, যা অন্যদের সাথে বসবাসকারীদের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া এলজিবিটি+ ব্যক্তি, বেকার এবং অনিশ্চিত কর্মসংস্থানে থাকা মানুষেরা সামাজিক অবমূল্যায়নের কারণে আরও বেশি নিঃসঙ্গ বোধ করছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ধনীদের মধ্যে একাকীত্বের হার মাত্র ১৩ শতাংশ হলেও দরিদ্রদের ক্ষেত্রে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ শতাংশে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একাকীত্বকে একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গবেষকরা বলছেন, পারিবারিক সম্পর্কের চেয়েও সুখের জন্য বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই সংকট নিরসনে স্থানীয় সরকারগুলোর প্রতি “আর্থিক বাধা” দূর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে পার্ক বা গণপরিসরের মতো এমন সব উন্মুক্ত স্থান বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে যেখানে কোনো অর্থ ব্যয় না করেই সাধারণ মানুষ সামাজিক মেলামেশার সুযোগ পাবে।


