বুলগেরিয়ায় গত পাঁচ বছরের মধ্যে অষ্টম বারের মতো সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল রবিবার (১৯ এপ্রিল ২০২৬)। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্নীতির কবলে থাকা দেশটির সাধারণ মানুষ এখন এক নতুন মোড়ের অপেক্ষায়। বিশেষ করে হাঙ্গেরিতে দীর্ঘ ১৬ বছর পর ভিক্টর ওরবানের পরাজয় বুলগেরিয়ার এই নির্বাচনে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যাকে বিশ্লেষকরা বলছেন ‘বুদাপেস্ট ইফেক্ট’।
বুলগেরিয়ার রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম রুমেন রাদেভ। বিমানবাহিনীর সাবেক এই জেনারেল এবং সদ্য পদত্যাগ করা প্রেসিডেন্ট নিজের নতুন রাজনৈতিক জোট ‘প্রগ্রেসিভ বুলগেরিয়া’ নিয়ে ভোটের মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। জনমত জরিপে ৩৩% সমর্থন নিয়ে তিনি সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন। রাদেভ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি ক্ষমতায় গেলে দেশ থেকে ‘অলিগার্ক’ বা ধনিকতন্ত্রের প্রভাব চিরতরে মুছে দেবেন।
হাঙ্গেরির সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের সাথে রাদেভের অনেক মিল খুঁজে পাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। রাদেভ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কড়া সমালোচক এবং রাশিয়ার প্রতি কিছুটা নমনীয় হিসেবে পরিচিত। তিনি ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোর বিরোধী এবং মনে করেন, ব্রাসেলসের আদর্শিক চাপ বুলগেরিয়ার জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। বিরোধীরা ভয় পাচ্ছেন, রাদেভ জয়ী হলে তিনি বুলগেরিয়াকে হাঙ্গেরির মতো ‘ইউরো-বিরোধী’ এবং রাশিয়ার ছায়াতলে থাকা একটি দেশে পরিণত করতে পারেন।
গত ১২ এপ্রিল হাঙ্গেরির নির্বাচনে পিটার মাগিয়ারের কাছে ওরবানের বড় ব্যবধানে পরাজয় বুলগেরিয়ার ভোটারদের মধ্যে দুই ধরনের বার্তা দিচ্ছে। একদল মনে করছেন, হাঙ্গেরিতে যদি ওরবানের মতো শক্তিশালী নেতাকে ভোটের মাধ্যমে সরানো সম্ভব হয়, তবে বুলগেরিয়াতেও পরিবর্তন আসবে। অন্যদিকে, সমালোচকদের আশঙ্কা ওরবান বিদায় নিলেও রাদেভের মাধ্যমে বুলগেরিয়ায় ‘ওরবান-শৈলী’র এক নতুন রক্ষণশীল শাসনের জন্ম হতে পারে।
বুলগেরিয়ায় গত কয়েক বছরে কোনো সরকারই স্থায়ী হয়নি। বারবার নির্বাচন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করছে। দুর্নীতির কেলেঙ্কারি আর রাজনৈতিক কোন্দলের কারণে দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় অংকের উন্নয়ন তহবিল হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। রাদেভ কি পারবেন এই অচলাবস্থা ভেঙে দেশটিকে একটি স্থিতিশীল সরকার উপহার দিতে, না কি বুলগেরিয়া আরও বড় রাজনৈতিক সংকটে পড়বে এখন সেই উত্তরই খুঁজছে বিশ্ব।


