স্পেনে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য খুশির খবর। গত ১৬ই এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) থেকে দেশটিতে অনথিভুক্ত বা অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার ঐতিহাসিক প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন জমা নেওয়া শুরু হওয়ায় স্পেনের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সামনে এবং কনসুলেটে হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে প্রাথমিক আবেদন শুরু হয়েছে এবং আগামী সোমবার থেকে সরাসরি সশরীরে গিয়ে নথিপত্র জমা দেওয়া যাবে। এই সুযোগটি পাওয়া যাবে ৩০শে জুন ২০২৬ পর্যন্ত। যারা এই সুযোগ নিতে চান, তাদের অবশ্যই কয়েকটি জরুরি কাগজপত্র জমা দিতে হবে। যেমন— নিজের পরিচয়পত্র (পাসপোর্ট বা আইডি), স্পেনে অন্তত পাঁচ মাস ধরে টানা বসবাসের প্রমাণ এবং নিজ দেশ ও স্পেন থেকে সংগৃহীত চারিত্রিক সনদ (ক্রিমিনাল রেকর্ড)। তবে অনেকের জন্য নিজ দেশ থেকে এই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহ করা কিছুটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে দুশ্চিন্তাও রয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, বৈধ হওয়ার জন্য আবেদনকারীকে অন্তত একটি শর্ত পূরণ করতে হবে। যেমন— স্পেনে কোনো কাজের অফার থাকা, স্পেনে পরিবারের কেউ থাকা অথবা মানবিক কোনো কারণে বিশেষ সাহায্য প্রয়োজন হওয়া। যাদের আবেদন গৃহীত হবে, তারা প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য কাজ করার ও বসবাসের অনুমতি পাবেন। পরবর্তীতে এটি চার বছরের জন্য নবায়ন করার সুযোগ থাকবে।
এই প্রক্রিয়ার জন্য হাজার হাজার অভিবাসী বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছেন। জ্যাকুলিন নামে পেরুর এক নারী জানান, কাগজপত্র না থাকায় তাকে সবসময় পুলিশের ভয়ে থাকতে হতো, এখন তিনি মুক্তভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। আবার মরক্কো থেকে আসা নেজাহ জানান, বৈধতা পেলে তিনি তার অসুস্থ মাকে দেখতে দেশে যেতে পারবেন, যা এতদিন সম্ভব হয়নি।
স্পেনের প্রায় ২০০টি সংস্থা বর্তমানে অভিবাসীদের আবেদন করতে সাহায্য করছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ যেমন দালালের হাত থেকে মুক্তি পাবেন, তেমনি তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সম্মানের সাথে কাজ করার অধিকার পাবেন।


