ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত করতে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা করছে পর্তুগাল। ফরাসি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘থ্যালেস’ এর তৈরি এই ব্যবস্থাটি ৫ হাজার কিলোমিটার দূর থেকেই যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করতে সক্ষম। ন্যাটোর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্মিত এই ‘স্কাইডিফেন্ডার’ প্রযুক্তি মূলত ড্রোনের আক্রমণ থেকে শুরু করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পর্যন্ত রুখে দিতে সক্ষম।
প্যারিসে থ্যালেসের কারখানা পরিদর্শন শেষে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পর্তুগাল এই বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা স্থাপত্যের সক্ষমতা খতিয়ে দেখছে। এই ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রাডার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে পারে। ইতোমধ্যে ফ্রান্স ও ইতালির এই সক্ষমতা থাকলেও পর্তুগাল এখন এটি তাদের সামরিক কর্মসূচির আওতায় আনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। যদিও পর্তুগিজ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই ক্রয়ের সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
পাশাপাশি, আগামী ছয় মাসের মধ্যে পর্তুগালে পৌঁছাতে যাচ্ছে ভ্রাম্যমাণ প্রতিরক্ষা ইউনিট ‘র্যাপিডরেঞ্জার’, যা স্টারস্ট্রিক এবং এলএমএম ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ১০ কিলোমিটার পাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ২০২৭ সালের মধ্যে আরও ৩২টি এ ধরণের সামরিক যান পর্তুগিজ বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। ইউরোপের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে পর্তুগাল তাদের জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর যে উদ্যোগ নিয়েছে, এই নতুন রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তারই অংশ।


