বিশ্ববাজারে জেট ফুয়েলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভয়াবহ সংকটে পড়েছে ইউরোপের এভিয়েশন সেক্টর। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে জার্মানিভিত্তিক লুফথানসা গ্রুপ আগামী অক্টোবর পর্যন্ত তাদের পূর্বনির্ধারিত শিডিউল থেকে ২০,০০০ ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনস, ব্রাসেলস এয়ারলাইনস, ইটা এয়ারওয়েজ এবং সুইস এয়ারলাইনস মূলত অলাভজনক ‘শর্ট-হল’ বা স্বল্প দূরত্বের ফ্লাইটগুলোতে এই বিশাল কাটছাঁট করছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে পোল্যান্ডের বিডগোসজ ও জেসো এবং নরওয়ের স্টাভাঞ্জার এই তিনটি গন্তব্যে লুফথানসার সব কার্যক্রম আপাতত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউরোপে জেট ফুয়েলের দাম গত বছরের তুলনায় ১০৬.৫ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ব্যারেল প্রতি ১৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল খরচ সামলাতে ফ্লাইট বাতিলের মাধ্যমে অন্তত ৪০,০০০ মেট্রিক টন জ্বালানি সাশ্রয় করতে চায় গ্রুপটি। কেবল লুফথানসা নয়, ডাচ এয়ারলাইনস ‘কেএলএম’ চলতি মাসে ১৬০টি এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইনস ‘এসএএস’ ১,০০০ ফ্লাইট বাতিল করেছে। এছাড়া নরওয়েজিয়ান ক্যারিয়ার ‘নরস আটলান্টিক’ তাদের লন্ডন-লস অ্যাঞ্জেলেস রুট এবং আয়ারল্যান্ডের ‘এয়ার লিঙ্গাস’ তাদের গ্রীষ্মকালীন শিডিউল থেকে ৫০০ ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে।
জ্বালানির এই অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়ছে যাত্রীদের ওপর। গত বছরের তুলনায় ইকোনমি ক্লাসের টিকিটের দাম গড়ে ২৪ শতাংশ বেড়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর পাশাপাশি ডেল্টা বা ইউনাইটেডের মতো এয়ারলাইনসগুলো ব্যাগেজ ফি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ইউরোপীয় কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, জ্বালানি সংকটের অজুহাতে ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বের জন্য যাত্রীদের আইনত প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার ফলে জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে এবং নিকট ভবিষ্যতে এই বর্ধিত ভাড়া কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।


