ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় করে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে এক নতুন ও কঠোর দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে পৌঁছেছে ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য। কয়েক মাসের জটিল আলোচনার পর দুই দেশ ২০১৮ সালের স্যান্ডহার্স্ট চুক্তিটি ২০২৯ সাল পর্যন্ত নবায়ন করতে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ফ্রান্সের উত্তর উপকূলে অভিবাসন বিরোধী কার্যক্রমে মোতায়েনকৃত বাহিনীর সংখ্যা প্রায় ৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে। বর্তমানে ৯০৭ জন সদস্য কাজ করলেও ২০২৬ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৯২ জনে উন্নীত করা হবে। বিশেষ করে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত অতিক্রম ঠেকাতে ৫০ জন প্রশিক্ষিত সদস্যের একটি নতুন ‘সিআরএস’ পুলিশ ইউনিট গঠন করবে ফ্রান্স।
চুক্তির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো ব্রিটেনের অর্থায়নের নতুন শর্ত। আগামী তিন বছরে যুক্তরাজ্য এই খাতে সর্বোচ্চ ৭৬৬ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এর মধ্যে ১৮৬ মিলিয়ন ইউরো রাখা হয়েছে ‘নমনীয় অংশ’ হিসেবে, যা কেবল তখনই প্রদান করা হবে যখন ফরাসি বাহিনীর পদক্ষেপগুলো অভিবাসন রুখতে কার্যকর প্রমাণিত হবে। বার্ষিক যৌথ মূল্যায়নের ভিত্তিতে যদি দেখা যায় পদক্ষেপগুলো পর্যাপ্ত ফল দিচ্ছে না, তবে এই অর্থ অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে। এছাড়া নজরদারি জোরদারে ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি মানব পাচারকারী চক্র ধরতে বিচারিক পুলিশ ইউনিটকেও শক্তিশালী করা হবে।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ অভিহিত করে জানিয়েছেন যে, ফ্রান্সের সাথে সহযোগিতার ফলে ইতোমধ্যে হাজার হাজার অভিবাসীর বিপজ্জনক যাত্রা রোধ করা সম্ভব হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টায় প্রায় ৪২ হাজার অভিবাসীর চ্যানেল পারাপার ঠেকানো হয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরো নুনেজ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দেবে। তবে এত কড়াকড়ি সত্ত্বেও চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ছয় হাজার ৭৭ জন অভিবাসী ইংল্যান্ডের উপকূলে পৌঁছেছেন। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪১ হাজারের বেশি, যা ২০১৮ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ক্রমবর্ধমান প্রাণহানি ও পারাপারের ঝুঁকি কমাতে এই গ্রীষ্মের শুরুতেই চুক্তির অধিকাংশ সম্পদ মোতায়েন করার পরিকল্পনা নিয়েছে দুই দেশ।


