লিসবন মেট্রোপলিটানো এর নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে যাচ্ছে অত্যাধুনিক সিগন্যালিং প্রযুক্তি, যা ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ চালকবিহীন বা অটোমেটেড ট্রেন চলাচলের সুযোগ তৈরি করবে। গত শুক্রবার ভিসেউতে আয়োজিত ‘উদ্ভাবনের শক্তি’ শীর্ষক এক বিতর্কে লিসবন মেট্রোর প্রেসিডেন্ট ও সিইও ক্রিস্টিনা ভাজ টোমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নতুন ‘সার্কুলার লাইন’ চালুর সাথে সাথে ‘কমিউনিকেশনস-বেসড ট্রেন কন্ট্রোল’ নামক এই নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।
ক্রিস্টিনা ভাজ টোমে ব্যাখ্যা করেন যে, আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে রাতো (হলুদ লাইন) থেকে কাইস দো সোদ্রে (সবুজ লাইন) পর্যন্ত সম্প্রসারিত নতুন সার্কুলার লাইনের উদ্বোধনের মাধ্যমেই এই প্রযুক্তির যাত্রা শুরু হবে। এই ব্যবস্থায় ট্রেনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে থামতে ও চলতে সক্ষম হবে। বর্তমানে লিসবন মেট্রোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই ঝুঁকি শনাক্ত করে ট্রেন থামাতে পারে—যেমনটি অতিবৃষ্টির সময় পানির স্তর বেড়ে গেলে পাম্পিং সিস্টেমের সংকেতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রেন থেমে যাওয়ার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। নতুন প্রজন্মের এই সিবিটিসি ব্যবস্থা সেই নিরাপত্তাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
তবে চালকবিহীন ট্রেন চলাচলের বিষয়টি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। লিসবন মেট্রোর প্রধানের মতে, এর জন্য আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং বেশ কিছু শ্রম ও রাজনৈতিক ইস্যু জড়িত রয়েছে। বিশেষ করে, বর্তমানে খোলা থাকা প্ল্যাটফর্মগুলোকে সম্পূর্ণ সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসা (প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন) একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া, বিদ্যমান কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাও এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। বার্সেলোনার মতো উন্নত শহরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এটিই আগামীর পথ। আপাতত চালকবিহীন ট্রেনের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা না করা হলেও, লিসবন মেট্রো যে একটি স্বয়ংক্রিয় ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে, তা স্পষ্ট।
তথ্যসূত্র: ডিয়ারিও দে নোটিসিয়াস


