ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চাভিলাষী ‘মেইড ইন ইউরোপ’ বা ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল এক্সিলারেটর অ্যাক্ট’ নিয়ে ব্রাসেলস ও বেইজিংয়ের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা এক নতুন তুঙ্গে পৌঁছেছে। সোমবার বেইজিং থেকে দেওয়া এক কড়া বার্তায় সতর্ক করা হয়েছে যে, ইউরোপ যদি তাদের নিজস্ব শিল্প রক্ষায় এই “বৈষম্যমূলক” নীতি কার্যকর করে, তবে চীনও তার ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না। মূলত ইলেকট্রিক গাড়ি, গ্রিন টেকনোলজি এবং স্টিল খাতের মতো কৌশলগত শিল্পগুলোতে চীনের একাধিপত্য মোকাবিলায় ইউরোপের এই নতুন রক্ষণশীল নীতি বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ শিল্পখাতকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং কর্মসংস্থান রক্ষা করা। এই পরিকল্পনার আওতায় সরকারি তহবিল পেতে হলে কোম্পানিগুলোকে তাদের পণ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইইউ-তে উৎপাদিত সরঞ্জাম ব্যবহার করে তৈরি করতে হবে। এছাড়া, চীনা ইলেকট্রিক গাড়ি ও ব্যাটারি নির্মাতাদের জন্য ইউরোপীয় অংশীদারদের সাথে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ভাগ করে নেওয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও রয়েছে। ইইউ-র দাবি, চীন তাদের নিজস্ব কোম্পানিগুলোকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে বিশ্ববাজারে এক অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করেছে, যা ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের অস্তিত্বের সংকটে ফেলছে।
অন্যদিকে, চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই আইনকে “পদ্ধতিগত বৈষম্য” হিসেবে অভিহিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বেইজিংয়ের মতে, এই পরিকল্পনাটি ইউরোপকে মুক্ত বাণিজ্যের আদর্শ থেকে বিচ্যুত করে উগ্র রক্ষণশীলতার দিকে ঠেলে দেবে। ইউরোপে কর্মরত চীনা চেম্বার অফ কমার্স মনে করছে, এর ফলে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং উভয় পক্ষের অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে। বর্তমানে চীন ও ইউরোপের মধ্যে এই ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েন কেবল বাণিজ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের এক দীর্ঘমেয়াদী লড়াইয়ে রূপ নিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ফ্রান্স ২৪


