যক্ষ্মা বা টিউবারকিউলোসিস কেবল একটি সাধারণ স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, বরং এটি একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লিয়িং লিয়াং-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যক্ষ্মা নির্মূলে প্রতি ১ ডলার বিনিয়োগের বিপরীতে প্রায় ৩৯ ডলার পর্যন্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া সম্ভব। ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ৭ লক্ষ মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১২ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষ মারা গেছেন। অথচ এটি একটি নিরাময়যোগ্য রোগ হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে বিশ্বের একক সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে মৃত্যুর প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের এই বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে যক্ষ্মার ভয়াবহ অর্থনৈতিক ক্ষতির দিকটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বলা হয়েছে, যক্ষ্মা সরাসরি শ্রমশক্তির উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয় এবং পরিবারের আয় হ্রাস করে দারিদ্র্য বিমোচনের পথে বাধা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে সাব-সাহারা আফ্রিকা অঞ্চলে যক্ষ্মার কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি ওই অঞ্চলের জিডিপির ৮.৪ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ যক্ষ্মার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রায় ১৭.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই যক্ষ্মা নির্মূলকে কেবল চিকিৎসা হিসেবে নয়, বরং কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা রক্ষার একটি ‘অর্থনৈতিক বিনিয়োগ’ হিসেবে দেখছে বিশ্বব্যাংক।
প্রতিবেদনটিতে আশার আলোও দেখানো হয়েছে। ২০০০ সাল থেকে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে বিশ্বে প্রায় ৮ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো যক্ষ্মায় আক্রান্তের হার ২০২০ সালের তুলনায় কিছুটা কমেছে। যক্ষ্মা, এইচআইভি এবং ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক এবং ‘গ্লোবাল ফান্ড’ সম্প্রতি একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় আগামী তিন বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করতে অন্তত ২ বিলিয়ন ডলারের যৌথ তহবিল গঠন করা হবে।
লিয়িং লিয়াং জোর দিয়ে বলেছেন যে, যক্ষ্মা নির্মূল করা মানেই হলো একটি জাতির অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে, তবে বিশ্বব্যাংকের এই নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরও সহায়ক হবে।
তথ্যসূত্র: বিশ্ব ব্যাংক


