গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি সামাজিক নিরাপত্তা অফিস এবং আদালত ভবনে পৃথক দুটি হামলায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। এই হামলার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে ৮৯ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে শনাক্ত করেছে গ্রিক পুলিশ। হামলাকারীকে ধরতে বর্তমানে পুরো এথেন্স জুড়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, বন্দুকধারী প্রথমে ন্যাশনাল সোশ্যাল সিকিউরিটি ফান্ড অফিসে প্রবেশ করে শটগান দিয়ে গুলি চালায়, যাতে একজন কর্মচারী আহত হন। এর কিছুক্ষণ পরেই সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি এথেন্সের কোর্ট অফ আপিল (আদালত) ভবনের নিচতলায় পুনরায় গুলি বর্ষণ করেন। গ্রিক সংবাদমাধ্যম ‘ইআরটি নিউজ’-এর ফুটেজে আদালত চত্বর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় অন্তত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। গ্রিসের মতো কঠোর আগ্নেয়াস্ত্র আইনের দেশে প্রকাশ্য দিবালোকে এমন হামলার ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
হামলার প্রকৃত কারণ এখনো তদন্তাধীন থাকলেও এর পেছনে আইনি বা প্রশাসনিক ক্ষোভ থাকার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আদালত ভবনে গুলির পর ওই বৃদ্ধ মেঝেতে নথিপত্র ভর্তি বেশ কিছু খাম ছুড়ে মারেন এবং দাবি করেন যে তার এই চরম পদক্ষেপের কারণ ওই নথিতেই রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারীর ব্যবহৃত শটগানটি উদ্ধার করেছে। এই ঘটনাটি গ্রিসের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনি প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
তথ্যসূত্র: ইউরো নিউজ


