স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ কর্তৃক ৫ লক্ষ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় রাজনীতিতে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে ফ্রান্সের দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো দাবি করছে যে, স্পেনে বৈধ হওয়া এই বিশাল জনগোষ্ঠী এখন অবাধে পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়বে। তবে তথ্যানুসন্ধান ও আইনি বিশ্লেষণ বলছে, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে ছড়ানো এই দাবিগুলো মূলত ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর।
শেঞ্জেন আইনের মারপ্যাঁচে স্পেনের রেসিডেন্স পারমিট মানেই পুরো ইউরোপে বসবাসের অধিকার নয়। স্পেনে বৈধ হওয়া একজন অভিবাসী কেবল পর্যটক হিসেবে অন্য দেশে ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থান করতে পারবেন। কিন্তু তিনি ফ্রান্সে বা অন্য কোনো ইইউ দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে বা কাজ করতে পারবেন না। যদি তিনি অন্য দেশে কাজ করতে চান, তবে তাকে সেই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নতুন করে ‘ওয়ার্ক পারমিট’ নিতে হবে, যা অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। এছাড়া, সামাজিক নিরাপত্তা বা বিনামূল্যে চিকিৎসার মতো রাষ্ট্রীয় সুবিধাগুলো কেবল স্পেনেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, স্পেনে নিয়মিত হওয়া অভিবাসীদের একটি বড় অংশ লাতিন আমেরিকান। ভাষাগত সুবিধা এবং পারিবারিক আবহের কারণে তারা স্পেনে থাকতেই বেশি স্বচ্ছন্দ। তাছাড়া, ২০২৫-২৬ সালের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী স্পেনের ক্রমবর্ধমান শ্রমবাজার তাদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে। স্পেনের এই পদক্ষেপ মূলত তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারের ঘাটতি পূরণ এবং অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার একটি কৌশল।
স্পেনের এই নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়ার ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে অভিবাসীদের ঢল নামার যে দাবি করা হচ্ছে, তার কোনো আইনি বা যৌক্তিক ভিত্তি নেই। এটি মূলত রাজনৈতিক ডামাডোলে তথ্যের অপব্যবহার বা ‘ডিসইনফরমেশন’-এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। উল্লেখ্য যে, ইতালির মতো দেশগুলোও একই অর্থনৈতিক প্রয়োজনে ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে ৫ লক্ষ নতুন অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
তথ্যসূত্র – ইউরো নিউজ


