ইউরোপে অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা বাড়াতে এবং অবৈধ নিয়োগ বন্ধ করতে বড় ধরনের নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। তৃতীয় দেশের নাগরিকদের জন্য ন্যায্য কাজের পরিবেশ তৈরি, শ্রমিক শোষণ বন্ধ এবং অবৈধ নিয়োগের বিরুদ্ধে লড়াই মূল্যায়ন করতে কমিশন দুটি নতুন গাইডলাইন বা নির্দেশিকা প্রতিবেদন গ্রহণ করেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পাস হওয়া ইউরোপীয় আশ্রয় ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনা কৌশল অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসন রোধ, বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা তৈরি এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করাকে এখন প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
কমিশনের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালে ইউরোপের দেশগুলো বিভিন্ন উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ খাতে প্রায় ৬ লক্ষ সুনির্দিষ্ট আকস্মিক পরিদর্শন চালিয়েছে। এই পরিদর্শনের ফলে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ২৮ হাজারেরও বেশি অবৈধভাবে নিযুক্ত অভিবাসী শ্রমিক শনাক্ত করা হয়েছে এবং এই সময়ে বার্ষিক জরিমানার পরিমাণ ২০০ মিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে গেছে। তবে শ্রমিকদের মামলা, সাজা এবং বকেয়া বেতন আদায়ের ক্ষেত্রে এখনো কিছু ঘাটতি রয়েছে। অপরদিকে, মৌসুমী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, সমান আচরণ ও আবাসন নিশ্চিত করার আইনটি আংশিকভাবে সফল হলেও, বাস্তবে এখনো তাদের তথ্য ও প্রতিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতি দূর করতে এবং শ্রমিক শোষণ বন্ধে নজরদারি বাড়াতে কমিশন ‘আশ্রয়, অভিবাসন এবং একীকরণ তহবিল’ এর অধীনে ১০ মিলিয়ন ইউরোর একটি নতুন অনুদান প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পের ৯০ শতাংশ খরচ বহন করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই ফান্ডের মাধ্যমে কৃষি, নির্মাণ, পরিবহন, হোটেল ও রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন সেবা খাতের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলোতে অবৈধ নিয়োগ ও শ্রম শোষণ বন্ধে কাজ করা হবে। এর অধীনে শ্রমিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনি ও মানসিক সহায়তা এবং অভিযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হবে। সদস্য দেশগুলো আগামী ২৮ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে এই ফান্ডের জন্য আবেদন করতে পারবে। এছাড়াও ২০২৬ সালে বিদ্যমান আইনগুলো আরও সহজ ও স্পষ্ট করার জন্য মূল্যায়ন শুরু করবে ইউরোপীয় কমিশন।
তথ্যসূত্র: ইমিগ্রেশন এন্ড হোম এফেয়ার্স ইইউ


