ইউরোপীয় ইউনিয়ন অর্থ পাচার, কর ফাঁকি এবং অন্যান্য আর্থিক অপরাধ রোধে একটি বড় ধরণের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। ইউরোপে বড় অঙ্কের কেনাকাটা বা ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ২০২৭ সালের ১০ জুলাই থেকে সমগ্র ইইউ জুড়ে ১০,০০০ ইউরো বা তার বেশি অঙ্কের যেকোনো বাণিজ্যিক লেনদেনে নগদ অর্থ বা ক্যাশ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে। ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষের ট্র্যাক করার সুবিধার্থে এই ধরণের বড় লেনদেনগুলো অবশ্যই ব্যাংক ট্রান্সফার বা কার্ডের মতো ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।
নতুন অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং রেগুলেশনের অধীনে এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে, যাতে পুরো ইউরোপে একটি অভিন্ন আইন তৈরি করা যায় এবং কোনো দেশের আইনের ফাঁকফোকর গলে অবৈধ কালো টাকা এক দেশ থেকে অন্য দেশে পার হতে না পারে। তবে ইইউ সর্বোচ্চ সীমার একটি নিয়ম ঠিক করে দিলেও সদস্য দেশগুলো চাইলে তাদের নিজস্ব বাজারে এর চেয়েও আরও কঠোর বা কম অঙ্কের ক্যাশ লিমিট আরোপ করতে পারবে। যেমন পর্তুগালে ইতিমধ্যেই তাদের জাতীয় আইনের কারণে ক্যাশ লেনদেনের সীমা এই নতুন নিয়মের চেয়েও অনেক কম রাখা হয়েছে।
ভালো বিষয় হলো, এই নিয়মটি শুধুমাত্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি বা পেশাদারদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্তরের কেনাবেচার ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। তবে ১০,০০০ ইউরোর ক্যাশ নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও, ৩,০০০ ইউরো থেকে ১০,০০০ ইউরোর মধ্যকার যেকোনো আকস্মিক বা অনিয়মিত ক্যাশ লেনদেনের ক্ষেত্রেও কঠোর নজরদারি এবং কিছু ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং দেশগুলোকে এই নতুন কাঠামোর সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে এটি ২০২৭ সালের ১০ জুলাই থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নীতিনির্ধারকদের মতে, তারা বাজার থেকে নগদ অর্থ একদম বন্ধ করছেন না, তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন রুখতে বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
তথ্যসূত্র: দ্য পর্তুগাল নিউজ


