পর্তুগালে আগামী ১০ আগস্ট থেকে ‘ভোল্টা’ ডিপোজিট লোগো ছাড়া ওয়ান-টাইম বা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল এবং কোমল পানীয়র ক্যান বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশটির নতুন প্যাকেজিং ডিপোজিট এবং রিফান্ড (ফেরত) ব্যবস্থার চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সময় শেষ হতে যাচ্ছে।
গত ১০ এপ্রিল কার্যকর হওয়া এই জাতীয় প্রকল্পের আওতায়, তিন লিটার পর্যন্ত প্লাস্টিকের বোতল এবং ধাতব কোমল পানীয়র ক্যানের ওপর ১০ সেন্টের (১০০ সেন্টে ১ ইউরো) একটি ফেরতযোগ্য ডিপোজিট বা জামানত চালু করা হয়েছিল। চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে খুচরা বিক্রেতাদের পুরোনো নিয়মের আগের স্টক বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে আগামী রোববার থেকে কেবল ‘ভোল্টা’ প্রতীক সম্বলিত কন্টেইনার বা বোতলগুলোই বিক্রি করা যাবে।
গ্রাহকেরা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত কোমল পানীয় কেনার সময় অতিরিক্ত ডিপোজিট বা জামানত পরিশোধ করবেন এবং খালি কন্টেইনারটি একটি অনুমোদিত সংগ্রহ কেন্দ্রে ফেরত দিয়ে সেই টাকা ফেরত পাবেন। ফেরত দেওয়ার জন্য বোতল বা ক্যানটি অবশ্যই খালি ও অক্ষত হতে হবে এবং এতে একটি স্পষ্ট বারকোড থাকতে হবে। এই রিফান্ডের টাকা নগদ অর্থ, শপিং ভাউচার, লয়্যালটি কার্ডে ক্রেডিট বা দাতব্য সংস্থায় দান হিসেবে নেওয়া যাবে।
নতুন এই নিয়মটি ওয়ান-টাইম কোমল পানীয় বিক্রি করা সুপারমার্কেট, কনভেনিয়েন্স স্টোর, ক্যাফে, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য খুচরা বিক্রেতাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১ কোটিরও (১০ মিলিয়ন) বেশি কন্টেইনার বা খালি বোতল সংগ্রহ কেন্দ্রে ফেরত এসেছে। বর্জ্য রিসাইক্লিং বা পুনর্ব্যবহার এবং চক্রাকার অর্থনীতি জোরদার করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের লক্ষ্যমাত্রার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৯ সালের মধ্যে ৯০ শতাংশ বোতল ও ক্যান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে পর্তুগাল।
বর্তমানে ভোল্টা প্রকল্পটি প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম এবং স্টিলের পানীয় কন্টেইনারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও, পরবর্তীতে এতে কাচকেও যুক্ত করা হতে পারে। পরিবেশমন্ত্রী মারিয়া দা গ্রাসা কারভালহো বলেছেন, পর্তুগালের বিদ্যমান কাচ রিসাইক্লিং নেটওয়ার্কের তুলনায় অতিরিক্ত খরচের বিপরীতে পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো যুক্তিযুক্ত কি না, তা মূল্যায়নের পরই সরকার কাচের বোতলে এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণের কথা বিবেচনা করবে।
পর্তুগাল রেসিডেন্ট


