ইতালির ফরমিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশির মালিকানাধীন একটি দোকানে বাংলাদেশি এক কর্মীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত তিন যুবককে শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।
সোমবার রাতে ভিয়া ভিত্তুরিও এলাকায় দোকানটিতে ঢুকে ওই তিন যুবক কর্মীর সঙ্গে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে তাদের একজন তাকে মাটিতে ফেলে মুখ ও পিঠে একের পর এক ঘুষি মারেন। হামলায় গুরুতর আহত কর্মীর চোয়ালের ওপরের ও নিচের অংশে দুটি হাড় ভেঙে গেছে। তিনি বর্তমানে দোনো স্ভিৎসেরো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হামলার সময় তিন যুবকের সবার মুখ হেলমেট দিয়ে ঢাকা ছিল। দোকানের ভেতরে ও বাইরে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে—এ বিষয়টি তারা জানতেন বলেই ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। তবে ক্যামেরাগুলোতে হামলার পুরো ঘটনা ধারণ হয়েছে।
আহত কর্মীর সঙ্গে কথা বলার অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা। তার শারীরিক অবস্থা কথা বলার মতো হলে হামলার কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
তদন্তে দোকানের মালিকের দেওয়া বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনিও বাংলাদেশের নাগরিক। তার বক্তব্যের পাশাপাশি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্তে অগ্রগতি যে কোনো সময় আসতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হামলার পেছনে বর্ণবাদী উদ্দেশে করা কোনো ‘মজা’ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও তৈরির চেষ্টা ছিল কি না, সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে কোনো ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে হামলা চালানো হয়েছিল কি না, সেটিও পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হামলার আগে বাংলাদেশি কর্মীর সঙ্গে তিন যুবকের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এরপর তাদের একজন তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন এবং মুখ ও পিঠে ঘুষি মারেন।
ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফরমিয়া শহর শাখা ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডি) সম্পাদক ও আইনজীবী স্তেফানো স্কিওপিওনে হামলাটিকে ‘গুরুতর’ বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, কর্মস্থলে একজন শ্রমিকের ওপর এমন সহিংস হামলা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার মতো নয়। আহত কর্মী ও তার পরিবারের প্রতি সংহতি জানিয়ে দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি। হামলার পেছনে বর্ণবাদী উদ্দেশ্য থাকার সম্ভাবনা সত্য হলে ঘটনাটি আরও গুরুতর হয়ে উঠবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


