পরবর্তী নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পুনরায় যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি রাখার সম্ভাবনা নাকচ করেননি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। তবে তিনি বলেছেন, এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনও আসেনি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন বার্নহাম। পরবর্তী নির্বাচনী ইশতেহারে ইইউতে ফেরার প্রতিশ্রুতি থাকবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি ‘অন্য এক দিনের জন্য’ রেখে দিতে হবে।
বার্নহাম জানান, এই মুহূর্তে তার প্রধান লক্ষ্য যুক্তরাজ্য-ইইউ সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং চলতি বছরের শেষ দিকে প্রত্যাশিত যুক্তরাজ্য-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ‘ব্রেক্সিট রিসেট’ উদ্যোগের প্রশংসা করে বার্নহাম বলেন, স্টারমার ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক পুনর্গঠনে ভালো কাজ করেছেন। এখন সেই সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ব্রিটিশ অর্থনীতিকে চাঙা করতে বাস্তবভিত্তিক চুক্তি করতে হবে।
বার্নহাম দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যকে ইইউতে ফেরানোর পক্ষে কথা বলে আসছেন। তবে মে মাসে মেকারফিল্ডের উপনির্বাচনের প্রচারের সময় তিনি এ অবস্থান কিছুটা নরম করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ব্রেক্সিট ব্রিটেনের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে, কিন্তু এখন পুরোনো বিতর্ক আবার শুরু করা উচিত হবে না।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর অবশ্য ব্রাসেলসের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন তিনি। গত সপ্তাহেও আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিশেল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকের পর বার্নহাম বলেন, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে তার সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী।
এদিকে, চলতি বছরের মে মাসে স্থানীয় নির্বাচনে লেবারের খারাপ ফলের পর দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের কেউ কেউ ব্রেক্সিটের প্রভাব নিয়ে সরব হয়েছেন। বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ব্রেক্সিটকে ‘বিপর্যয়কর ভুল’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
তবে ব্রেক্সিট নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরুর বিরোধিতা করছে ব্রিটেনের ডানপন্থী দলগুলো। কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বাডেনক ব্রেক্সিট বিতর্ক আবার উসকে দেওয়ার জন্য লেবারের সমালোচনা করেছেন। আর রিফর্ম ইউকের রিচার্ড টিস ব্রেক্সিট নিয়ে নতুন রাজনৈতিক লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।


